জবিতে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের দুই দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া: সংঘর্ষে প্রতিনিধি সাংবাদিকসহ আহত অর্ধশতাধিক

পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এক সভাকে কেন্দ্র করে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে দুই দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বাংলা ট্রিবিউনের জবি প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ উভয় সংগঠনের অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে এবং পরবর্তীতে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালের সামনে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে প্লাকার্ড প্রদর্শন ও সংঘর্ষের সূত্রপাত

প্রত্যক্ষদর্শী ও ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়:

  • প্রথম দফার সংঘর্ষ: জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে মিলনায়তনে ঢুকলে সেখানে উপস্থিত ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং পুরো মিলনায়তনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

  • হাসপাতালের সামনে দ্বিতীয় দফা হামলা: দুপুর ২টার দিকে ১ম দফার সংঘর্ষে আহতদের দেখতে ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা পাশেই ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে জড়ো হন। এ সময় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বাইরে অবস্থান নিয়ে পাল্টা স্লোগান দিলে দ্বিতীয় দফায় ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

পরস্পরবিরোধী অভিযোগ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বক্তব্য

সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে উভয় ছাত্র সংগঠনই পরস্পরকে দায়ী করে বিবৃতি দিয়েছে:

জবি শিবিরের বক্তব্য: জবি শিবির সমর্থিত ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবি ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে তুলে ধরতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে গেলে শিক্ষক ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা আমাদের কর্মীদের ওপর রড ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে আমাদের প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছেন।”

জবি ছাত্রদলের প্রতিক্রিয়া: অভিযোগ নাকচ করে ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, “সারাদেশে জকসুর ব্যর্থতা ও নিজেদের অপকর্ম আড়াল করতেই শিবির পরিকল্পিতভাবে বেরোবির মতো জবিতেও ‘মব কালচার’ তৈরি করার চেষ্টা চালিয়েছে। আমাদের নেতাকর্মীরা তা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সাথে নিয়ে প্রতিরোধ করেছে মাত্র।”

উপাচার্যের প্রতিক্রিয়া: জবি উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদ্দীন জানান, “জুলাই দিবসের একটি সুন্দর অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারীরা জুলাইবিরোধী কোনো শক্তির অংশ হতে পারে। এতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কোনো উসকানি বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত কমিটি গঠিত হবে।”

প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসের মূল ফটক ও হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ মিছিল অব্যাহত রেখেছিলেন এবং শিবিরের একদল কর্মী হাসপাতালের ভেতরেই নিরাপত্তা বলয়ে অবস্থান করছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top