মামলা জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদার হচ্ছে- আইনমন্ত্রী
 

 

মামলার জট কমাতে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি জোরদার করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান

আদালতে মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও জট নিরসনে বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (Alternative Dispute Resolution – ADR) ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে আইনি সহায়তা ও মধ্যস্থতাকার্যক্রম পরিচালনাকারী অভিজ্ঞ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই ২০২৬) সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর (ডিবিএলএ)’-এর সঙ্গে ‘বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট)’ এবং ‘ব্র্যাক’-এর সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনি সুরক্ষা (সেল্‌প) কর্মসূচির পৃথক দুটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এসব কথা বলেন।

২০ জেলায় মামলা দায়েরের হার কমেছে ৬২ শতাংশ

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকারের একার পক্ষে দেশের বিশাল আদালতের মামলার জট নিরসন করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে কাজ করা এবং মধ্যস্থতায় অভিজ্ঞ বেসরকারি সংস্থাগুলোর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। ব্লাস্ট ও ব্র্যাকের সঙ্গে আজকের এই সমঝোতা স্মারক সেই যৌথ উদ্যোগেরই একটি মাইলফলক।

সম্প্রতি সরকারের করা একটি পর্যালোচনা তুলে ধরে তিনি জানান:

  • মামলা হ্রাসের হার: দেশের ২০টি জেলায় নির্দিষ্ট কয়েকটি আইনের আওতায় গত ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত সময়ে নতুন মামলা দায়েরের হার আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬২ শতাংশেরও বেশি কমেছে।

  • এডিআরের সাফল্য: বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি (ADR) কার্যক্রমের ইতিবাচক ফলাফলের কারণেই এই আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন এসেছে। বিচার বিভাগকে বিচারাধীন উপযুক্ত মামলাগুলো মধ্যস্থতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য আরও বেশি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।

সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে পরিবর্তন ও পারিবারিক মামলা কমানোর উদ্যোগ

পারিবারিক ও দেওয়ানি বিরোধ কমাতে সরকারের নতুন চিন্তাভাবনার কথা জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন:

“সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলার সংখ্যা কমাতে সরকার ‘ট্রান্সফার অব প্রপার্টি অ্যাক্ট’ (সম্পত্তি হস্তান্তর আইন) সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। এর মাধ্যমে বাবা-মা জীবদ্দশায় সন্তান বা অন্য কাউকে সম্পত্তি হস্তান্তর করেও নিজেদের ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণ করতে পারবেন, যা পারিবারিক বিরোধ ও অপ্রয়োজনীয় মামলা কমাতে দারুণ সহায়ক হবে।”

পাশাপাশি জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির কার্যক্রমের সঙ্গে বেসরকারি অংশীদারদের সম্পৃক্ত করা হবে, যাতে বিচারাধীন মামলাগুলোও মধ্যস্থতার মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়।

সমঝোতা স্মারক দুটির প্রধান দিকসমূহ

আজ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি এমওইউর মাধ্যমে নিচের বিষয়গুলো বাস্তবায়িত হবে:

  1. ব্লাস্টের সঙ্গে চুক্তি: ব্লাস্টের সহযোগিতায় ঢাকা, গাজীপুর ও চট্টগ্রামে পাইলট ভিত্তিতে ‘কোর্ট প্যারা লিগ্যাল’ নিয়োগের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি সহায়তা দেওয়া হবে। এছাড়া সফল মধ্যস্থতাকে আইনগত স্বীকৃতি এবং ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে আদালতে মামলা দায়েরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রত্যয়নপত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

  2. ব্র্যাকের সেল্‌প (SELP) কর্মসূচি: পেশাদার মধ্যস্থতাকারীদের প্রশিক্ষণ প্রদান, সনদ প্রদান, সফল মধ্যস্থতার আইনগত স্বীকৃতি, ব্যর্থ মধ্যস্থতার ক্ষেত্রে প্রতিবেদন প্রদান এবং যৌথ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

আইন ও বিচার বিভাগের সচিবালয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • এসএম এরশাদুল আলম ও মো. খাদেম উল কায়েস (অতিরিক্ত সচিব, আইন ও বিচার বিভাগ)

  • মো. মনজুরুল হোসাইন (মহাপরিচালক, বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর-ডিবিএলএ)

  • শাশ্বতী বিপ্লব (সহযোগী পরিচালক, ব্র্যাক এসইএলপি ও জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি প্রোগ্রাম)

  • ব্যরিস্টার সারা হোসেন (অবৈতনিক নির্বাহী পরিচালক, ব্লাস্ট)

অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top