জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার ঘটনায় সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পৃথক দুটি তদন্তের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ রোববার (২৬ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন শাখায় ‘বাংলাদেশ আজাদ পার্টি’ এবং ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর পক্ষ থেকে এই অভিযোগ দুটি জমা দেওয়া হয়।
‘তিন বাহিনীর প্রধান হয়েও নীরবতা ও মৌন সম্মতি’: আজাদ পার্টির অভিযোগ
আজ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে ব্রিফিংকালে অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল হাসিনুর রহমান। বাংলাদেশ আজাদ পার্টির পক্ষে দায়ের করা এই অভিযোগে ২০০৯ সালের পিলখানা হত্যাকাণ্ড, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ বিভিন্ন গুম-খুনের ঘটনায় তৎকালীন দুই রাষ্ট্রপ্রধানের দায় নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।
অভিযোগের মূল গ্রাউন্ড ও ব্যাখ্যা তুলে ধরে কর্নেল (অব.) হাসিনুর রহমান বলেন:
-
সুপিরিয়র রেসপন্সেবিলিটি (Superior Responsibility): আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনের আইনি নীতি অনুযায়ী, কোনো গণহত্যা বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদমর্যাদার ব্যক্তি তাঁর ওপর বর্তানো দায়িত্ব এড়াতে পারেন না।
-
মৌন সম্মতি ও নিষ্ক্রিয়তা: সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক (Commander-in-Chief) হওয়া সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কয়েক শত বেসামরিক মানুষ হত্যার সময় কোনো পদক্ষেপ নেননি বা যুদ্ধ ঘোষণা করেননি। ৫ আগস্ট পর্যন্ত বঙ্গভবনে থেকে আয়নাঘর, গুম ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তাঁর নিষ্ক্রিয়তা ও প্রতিবাদ না করা মূলত এই অপরাধগুলোতে ‘মৌন সম্মতি’ প্রদান নির্দেশ করে।
রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের পৃথক অভিযোগ
এদিকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনকারীদের ওপর দমন-পীড়ন চালাতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহায়তা দেওয়ার অভিযোগ এনে সদ্যবিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে পৃথক একটি আবেদন জমা দিয়েছে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, স্বৈরাচারী সরকারকে নিরাপত্তা বিধান, রাজপথের অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ না খোলা এবং রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ক্ষমতার সমস্ত সুবিধা ভোগ করার কারণে বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে আইনি ও নৈতিক দায় নিতে হবে।
সংকটময় সময়ের দুই রাষ্ট্র প্রধান
উল্লেখ্য, ২০১৩ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে দেশের ২১তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন আবদুল হামিদ। এরপর ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে ২৪ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে শুক্রবার পদত্যাগ করা মো. সাহাবুদ্দিনের বিদায়ের পরদিনই এই আইনি পদক্ষেপ দুটি নেওয়া হলো।







