ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত) আসামি শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ও ভারতের সরকারের উচ্চপর্যায়ের পারস্পরিক কূটনৈতিক সমঝোতা ও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া নিজের ইচ্ছায় দেশে এসে সরাসরি আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পারবেন না। তবে তিনি যদি কোনোভাবে দেশে পা রাখেন, তবে বিমানবন্দরেই তাঁকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হবে।
রোববার (১২ জুলাই ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা স্পষ্ট করেছেন ট্রাইব্যুনালের নবনিযুক্ত চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
“তিনি এখন ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসিত”
শেখ হাসিনার আইনি স্ট্যাটাস ও প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া নিয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন:
“শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে একপ্রকার নির্বাসিত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি কোনো সাধারণ নাগরিক নন যে নিজের ইচ্ছা করলেই টিকিট কেটে বাংলাদেশে ফিরে আসতে পারবেন। তাঁকে দেশে ফিরতে হলে বা ফিরিয়ে আনতে হলে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যকার কূটনৈতিক চ্যানেল এবং দ্বিপক্ষীয় বন্দি বিনিময় (Extradition) চুক্তির আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আসতে হবে। আর আইনি প্রক্রিয়ায় দেশে পা রাখামাত্রই তাঁকে ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা মূলে গ্রেপ্তার করা হবে।”
২১ জুলাই জমা পড়ছে শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডের তদন্ত প্রতিবেদন
সাংবাদিকদের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর একটি মেগা খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত নৃশংস গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত তদন্ত অবশেষে সফলভাবে শেষ হয়েছে।
তিনি ডেডলাইন ঘোষণা করে বলেন, আগামী ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে এই ঐতিহাসিক মামলার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে।
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের প্রধান ১০ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে
শাপলা চত্বরের পাশাপাশি চব্বিশের ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত নৃশংস গণহত্যা, নির্বিচারে গুলি ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলোর অগ্রগতিও তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর।
তিনি জানান, ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে সংঘটিত নৃশংসতার ঘটনায় ট্রাইব্যুনালে দায়ের হওয়া প্রধান ১০টি স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখন একদম শেষ পর্যায়ে রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দিনরাত কাজ করে তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। এসব মেগা মামলার তদন্ত প্রতিবেদনও খুব শিগগিরই ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন।







