“বর্তমান প্রজন্মই আগামী দিনের বাংলাদেশের মূল চালিকাশক্তি ও ভবিষ্যৎ। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলার গুরুদায়িত্ব তোমাদের কাঁধেই বর্তাবে। তাই সার্টিফিকেটসর্বস্ব শিক্ষার পেছনে না ছুটে এখন থেকেই জ্ঞান, বিজ্ঞান, দক্ষতা এবং গভীর দেশপ্রেম নিয়ে নিজেদের সুনাগরিক হিসেবে প্রস্তুত করতে হবে।”
রোববার (২৮ জুন ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবন পরিদর্শনে আসা বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও দর্শনার্থীদের উদ্দেশ্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। এদিন সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ আমন্ত্রণে এক ব্যতিক্রমী ও আনন্দঘন মধ্যাহ্নভোজে (Lunch) অংশ নেন তাঁরা।
সুবিধাবঞ্চিত শিশু ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর আড্ডা
সংসদ ভবনের ভিআইপি ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজিত এই মধ্যাহ্নভোজে সমাজের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষার্থীরা অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন:
-
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ: আইন বিভাগের ২৯ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
-
‘সুরভী’ (গণসাক্ষরতা অভিযানের সহযোগী সংস্থা): সমাজের পিছিয়ে পড়া ও ২১ জন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থী এবং তাঁদের শিক্ষকমণ্ডলী।
-
তেজগাঁও কলেজ ডিবেটিং সোসাইটি: যুক্তিনির্ভর সমাজ বিনির্মাণের কারিগর ১৬ জন তারুণ্যের তার্কিক ও শিক্ষক।
মধ্যাহ্নভোজের টেবিল ঘুরে ঘুরে প্রধানমন্ত্রী নিজে শিক্ষার্থীদের খোঁজখবর নেন এবং অত্যন্ত অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে তাঁদের সাথে আড্ডায় মাতেন। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পুথিগত বিদ্যায় সীমাবদ্ধ না থেকে খেলাধুলা, বিতর্ক এবং বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের (Extra-curricular activities) মাধ্যমে নিজেদের ইন্টারপার্সোনাল স্কিল ও লিডারশিপ কোয়ালিটি বাড়ানোর পরামর্শ দেন।
সংসদের কার্যপ্রণালী সরাসরি অবলোকন
এই শিক্ষার্থীরা মূলত জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের বিশেষ ‘সংসদ ভবন পরিদর্শন কর্মসূচি’র অংশ হিসেবে এসেছিলেন। দিনব্যাপী এই প্রাতিষ্ঠানিক কর্মসূচিতে তাঁরা সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা লাভ করেন।
শিক্ষার্থীরা ঐতিহাসিক সংসদ লাইব্রেরি ঘুরে দেখেন, উত্তর প্লাজায় অফিশিয়াল ফটোসেশনে অংশ নেন এবং গ্যালারিতে বসে সরাসরি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অধিবেশনের লাইভ কার্যপ্রণালী দেখার এক দুর্লভ সুযোগ পান।
শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উচ্ছ্বাস ও কৃতজ্ঞতা
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন প্রত্যক্ষ করার পাশাপাশি দেশের সরকারপ্রধানের এমন রাজকীয় ও আন্তরিক আতিথেয়তায় অংশ নিতে পেরে আনন্দের বন্যা বয়ে যায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিশেষ করে ‘সুরভী’র সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা দেশের প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে উপহার ও আপ্যায়ন পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়ে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনামূলক পরামর্শ ও ভালোবাসার জন্য শিক্ষার্থী ও শিক্ষকমণ্ডলী সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারপ্রধানের এই উদ্যোগ তরুণ প্রজন্মের সাথে রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের দূরত্ব কমিয়ে আনবে এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।







