মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত
 

 

সবার আগে বাংলাদেশ, অর্জন দেশের মানুষের: সংসদে সর্বসম্মত ধন্যবাদ প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কৃতজ্ঞতা

মালয়েশিয়া ও গণচীনে তাঁর সাম্প্রতিক দ্বিপাক্ষিক রাষ্ট্রীয় সফর নিয়ে জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হওয়ায় বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২৭ জুন ২০২৬) দুপুরে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রথম পর্বের শেষ সময়ে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী এই ধন্যবাদ জানান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তাঁর অত্যন্ত সফল এই বিদেশ সফরের ভূয়সী প্রশংসা করে সংসদে একটি ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়, যা সর্বসম্মতিক্রমে ও কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

“আমাদের স্লোগান ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ”

সংসদে দেওয়া সংক্ষিপ্ত ও তাৎপর্যপূর্ণ বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর নতুন সরকারের বৈদেশিক নীতি ও কূটনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি তুলে ধরেন। তিনি অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন:

“এ দেশের আপামর মানুষ আমাদের ওপর পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। আমাদের সুনির্দিষ্ট স্লোগানই হচ্ছে—‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে বাংলাদেশ। এই কারণেই আমার সাম্প্রতিক দুটি বিদেশ সফরে প্রতিটি দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে আমি শুধুমাত্র এবং শুধুমাত্র দেশের স্বার্থ নিয়েই কথা বলেছি। এখানে কারও কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নেই।”

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “এই দ্বিপাক্ষিক সফরে যদি কোনো ঐতিহাসিক অর্জন বা বড় চুক্তি হয়ে থাকে, তবে তা কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট দলের অর্জন নয়। এই অর্জন সমগ্র দেশের, এই অর্জন এ দেশের সাধারণ মানুষের।”

বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদকে ধন্যবাদ

সংসদে সরকারি ও বিরোধী দলের এমন ঐকমত্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু সংসদের সকল সম্মানিত সদস্য—বিশেষ করে বিরোধীদলীয় নেতা (জাতীয় নাগরিক পার্টির জি এম কাদের বা সংশ্লিষ্ট প্রধান) দেশের মানুষের স্বার্থে কাজ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত ইতিবাচক উৎসাহ ও রাজনৈতিক পরিপক্বতা দেখিয়েছেন, সেজন্য তিনি বিরোধীদলীয় নেতাসহ সংসদের সকল সদস্যকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন প্রথমে মালয়েশিয়া এবং পরবর্তীতে ২২ থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত চীনে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় সফর সম্পন্ন করে গতকাল শুক্রবার রাতেই দেশে ফিরেছেন। এই সফরে চীনের সাথে তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনায় বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং ২ প্লাস ২ কৌশলগত সংলাপ চালুর সিদ্ধান্তসহ মোট ১৫ দফা যৌথ ঘোষণা এবং ১৩টি মেগা সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও বৈদেশিক নীতিতে বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top