নব্য ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন- জামায়াত আমীর
 

 

নব্য ফ্যাসিবাদ বিদায় করতে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের প্রস্তুতি নিন, বিএনপি জনরায়কে সম্মান করেনি: খুলনায় শফিকুর রহমান

“মনে হচ্ছে নব্য ফ্যাসিবাদকে বিদায় জানাতে দেশের মানুষকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। এই বিপ্লব কোনো নির্দিষ্ট দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য নয়, কোনো গোষ্ঠী এবং পরিবারকে তোষামোদ করার জন্য নয়, কোনো আধিপত্যবাদের কাছে মাথা নত করার জন্যও নয়; বরং দুনিয়ার বুকে স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে সম্মান, ইজ্জত, শক্তি ও সাহস নিয়ে মাথা তুলে দাঁড়ানোর জন্য হবে আগামীর এই দ্বিতীয় বিপ্লব।”

শনিবার (২০ জুন ২০২৬) বিকেলে খুলনা সার্কিট হাউস ময়দানে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসুন: বিএনপিকে কড়া সমালোচনা

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির তীব্র সমালোচনা ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন:

“বিএনপি জাতির সঙ্গে দেওয়া কোনো কথা রাখেনি। নির্বাচনের আগে তারা যে রূপ দেখিয়েছিল, ক্ষমতায় গিয়ে এখন তার উল্টো করছে। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলছি—আপনারা ভুল করছেন। এখনো সময় আছে, ভুল সংশোধন করে জনগণের কাতারে আসেন এবং জনরায়কে সম্মান করুন। জনরায়কে সম্মান না করার শেষ পরিণতি কী নির্মম হতে পারে, দফায় দফায় দেখার পরও যদি আপনাদের শিক্ষা না হয়, তবে জীবনেও আপনাদের আর শিক্ষা হবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, সহজে ওনাদের কানে পানি ঢুকবে না। সিরিঞ্জ দিয়ে যদি পানি ঢুকাতে হয়, তাহলে যুবসমাজকে সাথে নিয়ে সেভাবেই পানি ঢুকানো হবে। যদি এর ফায়সালা সংসদে না হয়, তবে যেখানে কথা বলতে ‘মাননীয় স্পিকার’ বলতে হয় না, যেখানে কথা বলতে স্পিকারের অনুমোদন লাগে না—সেই মাঠ-ময়দান থেকেই ফায়সালা হবে।”

মাঠ-ময়দান থেকে আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, “প্রয়োজন হলে খুলনার মাঠ, বরিশালের মাঠ, কুমিল্লার মাঠ, সিলেটের মাঠ, চট্টগ্রামের মাঠ, ময়মনসিংহের মাঠ, রংপুরের মাঠ, বগুড়ার মাঠ, রাজশাহীর মাঠ—সব জায়গা থেকে নব্য স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণজাগরণের আগ্নেয়গিরি তৈরি হবে। আর এই আগ্নেয়গিরির দাবানলে সমস্ত নব্য ফ্যাসিবাদী আবর্জনা পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে।”

জামায়াত দেশে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা গৃহযুদ্ধ চায় না উল্লেখ করে আমির বলেন, “আমরা দেশকে ভালোবাসি। দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে এবং একটা গৃহযুদ্ধ এড়াতে শত যন্ত্রণা বুকে নিয়ে আমরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছিলাম। কিন্তু তার মানে এই নয় যে আমরা কারও দাসত্ব মেনে নেব। এখন আর কারও বাপ–দাদার চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করব না, অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না। আমাদের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ফাঁসির তক্তায় দাঁড়িয়ে মুচকি হাসি দিয়ে আমাদের শিখিয়ে গেছেন কীভাবে দেশ ও জাতির জন্য জীবন উৎসর্গ করতে হয়।”

সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের হুংকার

খুলনার এই বিশাল বিভাগীয় সমাবেশে বিশেষ ও সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নব্য ফ্যাসিবাদ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বিরুদ্ধে সুর মেলান ডান-বাম ও ইসলামী ধারার ১১ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

বক্তব্য রাখেন:

  • কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম: সভাপতি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি)।

  • মাওলানা মামুনুল হক: আমির, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী: মুখ্য সমন্বয়ক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

  • মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সোবহানী: ভারপ্রাপ্ত সভাপতি, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি।

  • ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ লেবার পার্টি।

  • মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন: কেন্দ্রীয় সিনিয়র নায়েবে আমির, খেলাফত মজলিস।

  • রাশেদ প্রধান: সহসভাপতি ও মুখপাত্র, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

  • আবদুল্লাহ আল মামুন রানা: যুগ্ম সচিব, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি)।

  • এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম: চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি)।

বক্তারা অবিলম্বে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সংস্কার, বাজার সিন্ডিকেট ধ্বংস এবং নির্বাচনী রোডম্যাপের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে রাজপথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top