দীর্ঘ ১১ বছর পর দেশের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে স্কেল বা বেতন কাঠামো অবশ্যই শতভাগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন কোনো বেতন কাঠামো না হওয়ায় উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই বাজারে তাঁদের জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েকগুণ বেড়েছে। তাই বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথাগত বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন।
আগামী জুলাই থেকেই কার্যকর হচ্ছে নতুন বেতন কাঠামো
এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট বক্তৃতায় তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে নতুন পে স্কেল কার্যকর করা হবে।
আজকের সংবাদ সম্মেলনে পে স্কেলের যৌক্তিকতা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন:
“সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গত ১১ বছর ধরে কোনো নতুন পে স্কেল দেওয়া হয়নি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে দেশের মূল্যস্ফীতি অনেক বেড়েছে, দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচও আকাশচুম্বী হয়েছে। ফলে তাঁদের বর্তমান বেতন কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা সময়ের দাবি হয়ে পড়েছিল। আমরা সেই দাবিকে সম্মান জানিয়েই বাজেটে এই বরাদ্দ ও ঘোষণা রেখেছি।”
বেতন বাড়লে দুর্নীতি কমবে: অর্থমন্ত্রী
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, নতুন পে স্কেলের মাধ্যমে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি পেলে সরকারি প্রশাসনে দুর্নীতি কমবে কি না? জবাবে অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত উত্তর দেন।
তিনি বলেন, “যৌক্তিকভাবে বেতন বৃদ্ধি পেলে সরকারি আমলা ও কর্মচারীদের মাঝে দুর্নীতি কমবে বলেই আমাদের বিশ্বাস। মানুষের যখন অভাব থাকে বা আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের সামঞ্জস্য থাকে না, তখন অনেক ক্ষেত্রে বাধ্য হয়ে বা অনিচ্ছাকৃতভাবেও দুর্নীতির দিকে ঝুঁকে পড়ার এক ধরনের প্রবণতা তৈরি হয়। এটি শুধু আমাদের দেশের চিত্র নয়, বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত ও অনুন্নত দেশেই এই মনস্তত্ত্ব দেখা যায়। আশা করছি, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে তাঁদের অভাব দূর হবে এবং প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সততা ফিরে আসবে।”
অর্থমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন যে, সরকারের এই সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী উদ্যোগ সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক কষ্ট ও মানসিক চাপ লাঘব করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।







