সীমান্তে পুশইন পশ্চিমবঙ্গ অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বহিঃপ্রকাশ- ডা. জাহেদ
 

 

সীমান্তে পুশইন পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ, দ্রুত সমাধানের আশা তথ্য উপদেষ্টার

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক জোরপূর্বক পুশইন (বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া) চেষ্টার ফলে যে অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত সংকট তৈরি হয়েছে, দুই দেশের যৌথ কূটনৈতিক উদ্যোগে দ্রুতই তার একটি টেকসই সমাধান হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন ২০২৬) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সরকারের চলমান বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের অগ্রগতি ও সিদ্ধান্ত তুলে ধরতে আয়োজিত এক নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতির চাপ

সীমান্তে সাম্প্রতিক পুশইন ও টানটান উত্তেজনা নিয়ে সাংবাদিকদের করা এক সুনির্দিষ্ট প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন,

“আমরা নিশ্চয়ই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক নির্বাচন খুব নিবিড়ভাবে ফলো (পর্যবেক্ষণ) করেছি। সেখানে নির্বাচনে এই বিষয়টি (অনুপ্রবেশ ও পুশইন) একটা অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক ইস্যু ছিল। মূলত এটি তাদের সম্পূর্ণ একটি অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ব্যাপার, যেটির খানিকটা অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ বা প্রভাব এই মুহূর্তে আমাদের সীমান্তের ওপরে এসে পড়ছে।”

তিনি ভারতের কেন্দ্রীয় নীতির ব্যাখ্যা দিয়ে আরও বলেন, “আমি ব্যক্তিগতভাবে এভাবে মনে করি না যে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে কোনো একটা বৈরি টেনশন (উত্তেজনা) তৈরির সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে ভারতীয় কেন্দ্রীয় সরকার এটা করছে। পশ্চিমবঙ্গে যে নতুন সরকার নির্বাচিত হয়ে দায়িত্বে এসেছে, তাদের নির্বাচনের একধরনের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছিল। এটি মূলত তাদের নিজস্ব রাজনীতিরই একধরনের স্থানীয় বহিঃপ্রকাশ।”

ইউনূস সরকারের আমলের জটিলতা কাটিয়ে নতুন দিগন্তের সূচনা

উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন যে সরকার এসেছে, তার সঙ্গে ভারতের বর্তমান সরকারের একটি ইতিবাচক বোঝাপড়া তৈরি হচ্ছে। তিনি নিজের কিছু দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সূত্র উল্লেখ করে বলেন, “আমার নিজেরও ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথাবার্তা হয়েছে। ভারত সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে গত ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে অধ্যাপক ইউনূস সরকারের (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) আমলে যে ধরনের কূটনৈতিক টানাপোড়েন বা স্থবির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, সেটা থেকে সম্পূর্ণ বেরিয়ে আসতে চায়। দুই দেশই এখন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে আন্তরিক।”

তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, সম্পর্ক উন্নয়নের এই পারস্পরিক সদিচ্ছার কারণেই তিনি মনে করেন প্রাথমিকভাবে সীমান্তে যে সংকট বা উত্তেজনা দেখা যাচ্ছে, কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এটার একটি স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান খুব দ্রুতই সম্পন্ন হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top