ভারতের পশ্চিমবঙ্গে অবৈধ বাংলাদেশি সন্দেহে ব্যাপক ধড়পাকড় এবং ক্রমাগত ‘পুশ-ব্যাকের হুমকির’ মুখে এক জটিল ও সংবেদনশীল পরিস্থিতির মাঝে বসতে যাচ্ছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শীর্ষ সম্মেলন। আগামী ৮ জুন ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)-এর মধ্যে মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের ৫৭তম সীমান্ত সম্মেলন শুরু হবে। চার দিনব্যাপী এই সম্মেলন চলবে ১১ জুন পর্যন্ত।
আজ সোমবার (১ জুন ২০২৬) বিজিবির পক্ষ থেকে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সীমান্ত সম্মেলনের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এবারের সম্মেলনে ১৫ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়, ভূমি জরিপ অধিদপ্তর এবং যৌথ নদী কমিশনের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন。
সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা ও আলোচনার মূল এজেন্ডা
সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) একতরফা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার মুখে বিজিবির কঠোর ও অনমনীয় অবস্থানের বেশ কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে, যেখানে বিজিবির চাপের মুখে বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ব্যাক বা লোকজনকে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার উদ্দেশ্যে বিপুলসংখ্যক মানুষকে জড়ো করা হচ্ছে বলেও দেশের বিভিন্ন মূলধারার সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।
এই পটভূমিতে বিজিবির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এবারের সীমান্ত সম্মেলনে দ্বিপাক্ষিক অন্যান্য বিষয়ের চেয়ে ভারতের পক্ষ থেকে পুশ-ব্যাকের অপচেষ্টা এবং সীমান্ত উত্তেজনার বিষয়টিই সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার পাবে।
সম্মেলনের প্রধান প্রধান এজেন্ডা:
-
পুশ-ব্যাকের চেষ্টা প্রতিরোধ: ভারতের সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে জোরপূর্বক পুশ-ব্যাকের চলমান হুমকি ও অপচেষ্টা বন্ধ করা।
-
সীমান্তে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ: নো মেনস ল্যান্ডে (No Man’s Land) আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া ও স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ ও সমাধান।
-
সীমান্ত হত্যা বন্ধ: সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলি ও সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা।
-
চোরাচালান ও পাচার রোধ: সীমান্ত দিয়ে অবৈধ মাদক, বিপজ্জনক রাসায়নিক এবং অস্ত্র পাচার কঠোরভাবে দমন করা।







