আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি ও হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন
 

 

উপদেষ্টা থাকাকালে আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি ও হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন: কুমিল্লা জেলা পরিষদ প্রশাসকের বিস্ফোরক দাবি

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বর্তমান মুখপাত্র ও সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্থানীয় সরকার ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা আত্মসাত ও নিয়মবহির্ভূতভাবে তুলে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা জেলা পরিষদের বর্তমান প্রশাসক মোস্তাক মিয়া দাবি করেছেন, আসিফ মাহমুদ উপদেষ্টা থাকাকালে জেলা পরিষদের নিজস্ব রাজস্ব তহবিল থেকে ১৫ কোটি টাকা এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন।

শনিবার (৩০ মে ২০২৬) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী (মৃত্যুবার্ষিকী) উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁস করেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ও মহানগর বিএনপি যৌথভাবে এই কর্মসূচির আয়োজন করে। উল্লেখ্য, জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া নিজে বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

‘বৈষম্যহীন সমন্বয়ের রাজনীতি ছিল ভণ্ডামি’

আলোচনা সভায় দেওয়া বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতাদের কড়া সমালোচনা করে বলেন, “আমার কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের সন্তান আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। তিনি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের গচ্ছিত তহবিল থেকে এই ১৫ কোটি টাকা তুলে নিয়ে গেছেন। আর আরেকজন হলেন হাসনাত আবদুল্লাহ, তিনি নিয়ে গেছেন ১০ কোটি টাকা। এটা হলো তাদের কথিত সমন্বয়ের অবস্থা!”

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরও বলেন, “তারা দেশের সাধারণ মানুষকে দেখিয়েছিলেন যে বাংলাদেশে বৈষম্যবিরোধী একটা সমন্বয়ের আদর্শিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করবেন, কিন্তু বাস্তবে তাদের নিজেদের মধ্যেই সেই সততা বা আদর্শের ন্যূনতম বালাই ছিল না।”

অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বিএনপির এই কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, “দীর্ঘ স্বৈরাচারী ও অন্তর্বর্তীকালীন টানাপোড়েনের পর আজ বাংলাদেশ সরকার আপনাদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমান আজ দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং তিনি এই নির্বাচিত সরকারের সফল নেতৃত্ব দিচ্ছেন।”

তিনি আরও যোগ করেন, “বিগত সরকারগুলোর রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া জাতীয় অর্থনীতিকে সচল ও পুনরুদ্ধার করার জন্য আজ আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনরাত কাজ করছেন। স্বৈরাচার ও সুযোগসন্ধানীরা যে অর্থনীতি ধ্বংস করেছিল, সেটাকে টেনে তোলার এক বিশাল ঐতিহাসিক দায়িত্ব আজ ওনার কাঁধে পড়েছে এবং দেশের সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে উনি সেই অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জনেই কাজ করে যাচ্ছেন।”

জেলা পরিষদ প্রশাসকের বক্তব্য নিয়ে ধোঁয়াশা

সংবাদ সম্মেলন ও সভার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর আসিফ মাহমুদ এবং হাসনাত আবদুল্লাহ ঠিক কোন খাত বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা পরিষদের সরকারি রাজস্ব তহবিল থেকে এই বিপুল পরিমাণ টাকা (সর্বমোট ২৫ কোটি টাকা) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছেন—তার সুনির্দিষ্ট নথিপত্র ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা জানতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোস্তাক মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।

তবে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ করেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস)। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, “প্রশাসক মহোদয় বর্তমানে একটি জরুরি রাষ্ট্রীয় ও দলীয় অনুষ্ঠানে অত্যন্ত ব্যস্ত রয়েছেন। তিনি এই কোটি কোটি টাকার তহবিল স্থানান্তরের আইনি ও প্রশাসনিক নথিপত্র এবং এ বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত বক্তব্য পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরবেন।”

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের পর কুমিল্লাসহ দেশজুড়ে এনসিপি এবং বিএনপির রাজনৈতিক মহলে তীব্র উত্তেজনা ও পাল্টা-পাল্টি কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি শুরু হয়েছে। এনসিপি নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এখনও এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top