বিশ্বরাজনীতির দুই প্রধান শক্তি—যুক্তরাষ্ট্র ও চীন—এক ঐতিহাসিক ও জটিল সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে বেইজিংয়ে শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের এই বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন মার্কিন প্রশাসন ইরান যুদ্ধের কারণে চরম সংকটে নিমজ্জিত। সিএনএন-এর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সফরটি ট্রাম্পের জন্য যতটা না কূটনৈতিক দ্বিপাক্ষিক আলোচনা, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিকভাবে টিকে থাকার লড়াই।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্পের জনসমর্থন যেমন হ্রাস পেয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলেও তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যের অস্থিরতা মার্কিন অর্থনীতিকে চাপে ফেলেছে। এই সংকট থেকে উত্তরণে ট্রাম্প এখন শি জিনপিংয়ের মধ্যস্থতা ও সাহায্য কামনা করতে পারেন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। অন্যদিকে, চীন এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের বিশ্বশান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বড় ধরনের কৌশলগত সুবিধা আদায়ের পরিকল্পনা করছে।
আলোচনার মূল এজেন্ডা ও ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ
বৈঠকের টেবিলে দুই দেশের পক্ষ থেকে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাচ্ছে:
-
ইরান সংকট ও যুদ্ধবিরতি: ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য হলো চীনের প্রভাব ব্যবহার করে ইরানকে একটি সম্মানজনক যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি করানো।
-
বাণিজ্য ও প্রযুক্তি বাজার: মার্কিন ব্যবসার বাজার পুনরুদ্ধারে ট্রাম্পের সফরসঙ্গী হিসেবে এনভিডিয়া ও এলন মাস্কের মতো শীর্ষ ব্যবসায়ীরা রয়েছেন। চীনের লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া।
-
তাইওয়ান ইস্যু: বেইজিং চায় তাইওয়ানে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বন্ধ হোক এবং এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তন হোক, যা চীনের জন্য একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বা ‘রেড লাইন’।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপট শি জিনপিংকে আলোচনার টেবিলে চালকের আসনে বসিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্প কি চীনের কঠিন শর্ত মেনে নিয়ে যুদ্ধ সমাপ্তির পথ খুঁজবেন, নাকি এই বৈঠকটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকবে, তা এখন বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।







