পিপলস নিউজ

ডিগ্রি পর্যন্ত নারী শিক্ষা ফ্রি এবং জুলাই থেকে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের পোশাক-ব্যাগ দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মহান জাতীয় সংসদকে জনগণের অধিকার রক্ষার মূল কেন্দ্র হিসেবে অভিহিত করে ঘোষণা দিয়েছেন যে, বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এবং সম্পূর্ণ জবাবদিহিমূলক একটি প্রশাসন। জনগণের সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করাই এই সরকারের প্রধান লক্ষ্য ও পবিত্র দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল ২০২৬) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এই প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

ভাষণের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দীর্ঘ প্রবাস জীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাধ্য হয়ে তাঁকে দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে অতিবাহিত করতে হয়েছে। বিদেশের উন্নত শিক্ষাব্যবস্থা ও বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে নিজের দেশের শিক্ষার্থীদের জন্য তাঁর মনে যে আক্ষেপ তৈরি হয়েছিল, তা উল্লেখ করে তিনি শিক্ষাঙ্গনের আমূল পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেন। এই লক্ষ্যে আগামী জুলাই মাস থেকে সরকার ধারাবাহিকভাবে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ব্যাগ, পোশাক এবং জুতা বিতরণের কর্মসূচি শুরু করবে, যাতে প্রতিটি শিশু একটি সম্মানজনক পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে।

নারী শিক্ষার প্রসারে একটি যুগান্তকারী ঘোষণা দিয়ে সরকারপ্রধান জানান, অতীতে বিএনপি সরকার মেয়েদের শিক্ষা দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত অবৈতনিক করেছিল, কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপটে নারী শিক্ষাকে স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যায় পর্যন্ত সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য ফলাফলের ভিত্তিতে বিশেষ উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হবে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি স্বাধীন দেশ যেখানে মানুষ কথা বলার অধিকার পাবে এবং মেধা অনুযায়ী কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে। সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ বিনির্মাণই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।

জ্বালানি সংকট সমাধানে সরকারের আন্তরিকতা প্রকাশ করে তিনি জানান, এ বিষয়ে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে আসা গঠনমূলক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে একটি যৌথ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top