লোহিত সাগর বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের অন্যদিকে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে শুরু হবে বলছেন ট্রাম্প

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন দফার আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যেই লোহিত সাগর বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে তেহরান। মার্কিন নৌ-অবরোধ অব্যাহত থাকলে হরমুজ প্রণালি ও ওমান সাগরের পাশাপাশি লোহিত সাগরেও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ রুদ্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটি। এই উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম আবারও ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে।

ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টারের প্রধান আলী আবদুল্লাহি বুধবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ অব্যাহত রাখে এবং ইরানি ট্যাঙ্কারের নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টি করে, তবে লোহিত সাগর দিয়ে কোনো আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না। তিনি একে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের পূর্বসূচনা হিসেবে অভিহিত করেন। মূলত হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি বন্দরে যাতায়াত করা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সোমবার থেকে কার্যকর করা অবরোধের পাল্টা জবাব হিসেবে এই হুমকি দিল তেহরান।

তেলের বাজারে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক প্রভাব:

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে না পারায় এবং লোহিত সাগর বন্ধের হুমকিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার বাজার খোলার পর ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের মূল্য ৭.৫ শতাংশ বেড়ে ১০২.৩৭ ডলার এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) ক্রুডের মূল্য ৮.৩ শতাংশ বেড়ে ১০৪.৫৬ ডলারে পৌঁছেছে। জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে আয়ারল্যান্ডসহ অনেক দেশেই বিক্ষোভ শুরু হয়েছে এবং কর কমানোর মতো জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে রাষ্ট্রগুলো।

ট্রাম্পের নতুন আলোচনার ইঙ্গিত:

তপ্ত এই পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিশেষ কিছু ঘটতে পারে। আমরা আবারও আলোচনায় বসতে আগ্রহী।” পাকিস্তানে পুনরায় এই বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক বার্তা বিনিময় হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার বিষয়ে তেহরান এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, পারমাণবিক ইস্যু ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে গভীর মতপার্থক্যই এখন আলোচনার মূল বাধা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top