দুই দিনের মধ্যে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংলাপের আভাস ট্রাম্পের এবং ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন সরাসরি বৈঠক

মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফিরিয়ে আনতে কূটনৈতিক তৎপরতা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার সম্ভাব্য সময় ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে শুরু হয়েছে সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। খবর বিবিসি ও রয়টার্স

সপ্তাহান্তে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হওয়ার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে বরফ গলতে শুরু করেছে। নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু হতে পারে এবং তারা পাকিস্তানে গিয়ে এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী। যদিও তেহরান এখনও পরবর্তী বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঐকমত্যের খবর নিশ্চিত করেনি।

ওয়াশিংটনে ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা:

এদিকে দীর্ঘদিনের সীমান্ত উত্তেজনা নিরসনে মঙ্গলবার মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টে ইসরায়েল ও লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে সরাসরি বৈঠক শুরু হয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই আলোচনাকে ‘খুবই ইতিবাচক’ এবং একটি ‘স্থায়ী সমাধান’ তৈরির প্রক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। বৈঠকে লেবাননে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মিশেল ইসা এবং ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূত ইয়েচিয়েল লেইটারসহ দুই দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

মার্কো রুবিওর বক্তব্য:

পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও বলেন, “সমস্ত জটিলতা হয়তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সমাধান হবে না, তবে আমরা একটি রূপরেখা তৈরির মাধ্যমে এগোতে চাই। আমরা এমন কিছু করতে চাই যাতে লেবাননের মানুষ তাদের প্রাপ্য ভবিষ্যৎ ফিরে পায় এবং ইসরায়েলের মানুষ নির্ভয়ে বসবাস করতে পারে।” তিনি এই প্রক্রিয়াকে একদিনের সীমাবদ্ধতার চেয়েও বেশি কিছু বলে উল্লেখ করেন।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদকে কেন্দ্র করে চলমান এই ত্রিমুখী কূটনৈতিক তৎপরতা যদি সফল হয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার এক ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top