ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দুই সপ্তাহের অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে স্বস্তি ফিরলেও ট্রাম্পের ‘নতুন বিশ্বব্যবস্থা’ নিয়ে বিশ্বনেতাদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা কাজ করছে। পাকিস্তানের কূটনৈতিক মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি আসলেও গত ৪০ দিনে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে যে ক্ষত তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠা দীর্ঘমেয়াদী চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরা।
৮ এপ্রিল ২০২৬-এর এই ঘোষণাকে ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোকে রাসমুসেন স্বাগত জানালেও প্রশ্ন তুলেছেন, পৃথিবী কি ৪০ দিন আগের চেয়ে ভালো আছে? এই এক মাসে বিশ্বনেতারা ট্রাম্পের এক প্রলয়ঙ্করী যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করেছেন, যা জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে।
বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও ট্রাম্পের সমালোচনা:
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েও ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, “কেউ পৃথিবীতে আগুন লাগিয়ে পরে এক বালতি পানি নিয়ে হাজির হলে তাকে বাহবা দেওয়া যায় না।” অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ ট্রাম্পের ‘সভ্যতার মৃত্যু’ সংক্রান্ত হুমকির তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে অসংগত বলে অভিহিত করেছেন।
জ্বালানি সংকট ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়:
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ইউরোপীয় ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশন সতর্ক করেছে যে, এই সংকটে একটি সাধারণ পরিবারের জ্বালানি ব্যয় বছরে প্রায় ২ হাজার ইউরো পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। জ্বালানি সংকট সামাল দিতে ইতালি, স্পেন ও জার্মানিতে কর কমানোসহ বিভিন্ন জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মিলানের অর্থনীতিবিদ টিটো বোয়েরি মনে করেন, অবকাঠামোগত ক্ষতির কারণে হরমুজ প্রণালি খুললেও স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগবে।
কূটনৈতিক তৎপরতা:
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বর্তমানে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে সফরে রয়েছেন। তার মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত রাখা নিশ্চিত করা। তবে বিশ্বনেতাদের বড় হতাশার জায়গা হলো— ট্রাম্পের ক্ষণে ক্ষণে বদলে যাওয়া আক্রমণাত্মক বক্তব্য বা সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করার মতো ক্ষমতা তাদের হাতে খুব সামান্যই রয়ে গেছে।
আপাতত সবার নজর আগামী দুই সপ্তাহের কূটনৈতিক আলোচনার দিকে, যেখানে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিই প্রধান গুরুত্ব পাবে।







