মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সংঘাত এখন এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। ইরানের কৌশলগত পদক্ষেপে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে ইসরায়েলে ইরানের সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। খবর হারেৎজ ও রয়টার্স।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্য পরিবহন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই সংকটের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক অন্তত ১ কোটি ২০ লাখ ব্যারেল তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বের মোট সরবরাহের প্রায় ১২ শতাংশ।
রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধি:
যদিও ফিউচার মার্কেটে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ১১৯.৫০ ডলারের আশেপাশে ঘুরপাক খাচ্ছে, কিন্তু ফিজিক্যাল মার্কেটে (তাৎক্ষণিক সরবরাহ) ইউরোপ ও এশিয়ার শোধনাগারগুলোকে প্রতি ব্যারেল তেলের জন্য ১৫০ ডলার পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে। তেলের এই আকাশচুম্বী দাম ২০০৮ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডকেও ছাড়িয়ে গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ মূল্যস্ফীতি ও অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিতে পারে।
ইসরায়েলে হামলা ও আতঙ্ক:
এদিকে, উত্তেজনার পারদ আরও চড়িয়ে ইসরায়েলের উত্তর ও দক্ষিণ অঞ্চলে ব্যাপক মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান ও হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘হারেৎজ’ জানিয়েছে, উত্তরাঞ্চলীয় শহর কিরিয়াত শমোনায় একটি স্থাপনায় সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, দক্ষিণ নেগেভ মরুভূমি লক্ষ্য করে ছোঁড়া একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
হামলার পর ইসরায়েলজুড়ে সাইরেন বেজে ওঠে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি, তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত থমথমে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে এবং নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।







