মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে দেওয়া আলটিমেটামকে ‘চূড়ান্ত’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। মঙ্গলবার রাত ৮টার (বাংলাদেশ সময় বুধবার সকাল ৬টা) মধ্যে তেহরানকে শর্ত মেনে চুক্তিতে আসার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তিনি। খবর আল-জাজিরা ও আইআরএনএ।
সোমবার হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, মঙ্গলবারের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। এর আগে ২১ মার্চ থেকে শুরু করে ধাপে ধাপে কয়েকবার হামলার হুমকি দিয়েও পিছিয়ে এসেছিলেন তিনি। তবে এবার ট্রাম্পের সুর অনেক বেশি কঠোর। তিনি নিজের সোশ্যাল মিডিয়া ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ লিখেছেন, ‘মঙ্গলবার, রাত ৮টা ইস্টার্ন টাইম!’ অর্থাৎ তেহরান সময় বুধবার ভোর সাড়ে ৩টার পর যেকোনো সময় বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে ওয়াশিংটন।
ইরানের অবস্থান ও প্রস্তাব:
সংঘাত নিরসনে ইরান একটি প্রস্তাব পাঠালেও ট্রাম্প সেটিকে ‘তাৎপর্যপূর্ণ কিন্তু যথেষ্ট নয়’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, “যদি তারা (ইরান) যা করা প্রয়োজন তা করে, তবে যুদ্ধ খুব দ্রুত শেষ হতে পারে। আমি মনে করি তারা ভালো বিশ্বাসে আলোচনা করছে, তবে তাদের আরও কিছু সুনির্দিষ্ট কাজ করতে হবে।”
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ‘অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি’র প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরান চায় যুদ্ধের স্থায়ী অবসান। এছাড়া তারা মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের স্থায়ী সমাপ্তি, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ চলাচলের আন্তর্জাতিক প্রোটোকল এবং ইরানের ওপর থেকে সকল আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি তুলেছে।
পুরনো আলটিমেটামগুলোর ধারাবাহিকতা:
উল্লেখ্য যে, গত ২১ মার্চ থেকে ট্রাম্প বারবার ইরানকে বিদ্যুৎকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন। কখনো ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’র দোহাই দিয়ে ৫ দিন, আবার কখনো ‘ইরান সরকারের অনুরোধে’ ১০ দিন সময় বাড়িয়েছিলেন তিনি। তবে গত ৪ ও ৫ এপ্রিল দেওয়া ‘৪৮ ঘণ্টার চূড়ান্ত সতর্কতা’র পর আজকের এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে যুদ্ধের একেবারে দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। ট্রাম্পের ভাষায়, সময়মতো চুক্তি না হলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতুগুলো ‘নরক’ বানিয়ে ছাড়া হবে।







