আকাশের দখল নিতে তৈরি বেইজিং: সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে চীনা শক্তিমত্তার মহড়া

সিঙ্গাপুর এয়ারশোর আকাশে এবার বেইজিংয়ের লাল পতাকার দাপট স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় নিজেদের ভূ-রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব বিস্তারের এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে এই আয়োজনকে বেছে নিয়েছে চীন। একদিকে যখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচ্ছিন্নতাবাদী নীতি আর মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের খড়্গ নিয়ে ওয়াশিংটনের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি নিয়ে এশীয় দেশগুলোর মধ্যে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই বেইজিং নিজেকে এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে উপস্থাপন করছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের ভাষ্যমতে, এবারের প্রদর্শনীতে চীনের যুদ্ধবিমান এবং বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর চোখেমুখে ছিল এক আত্মবিশ্বাসী দৃঢ়তা। পিপলস লিবারেশন আর্মির জে-১০সি যুদ্ধবিমানের চোখ ধাঁধানো অ্যারোবেটিক প্রদর্শনী কেবল দর্শকদের আনন্দই দেয়নি, বরং সরাসরি আকাশপথে মাঝ-আকাশে জ্বালানি ভরে সিঙ্গাপুরে পৌঁছে বেইজিং এই বার্তাই দিয়েছে যে, তাদের সামরিক সক্ষমতা এখন যে কোনো দূরত্বে অপারেশন পরিচালনা করতে প্রস্তুত।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা এই প্রদর্শনীর গভীর কৌশলগত গুরুত্ব অনুভব করছেন। বিশেষ করে প্রদর্শনীর স্টলে রাখা জে-৩৫এ স্টিলথ ফাইটারের মডেলটি আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যেসব দেশ মার্কিন এফ-৩৫ বিমানের উচ্চমূল্য বহন করতে অক্ষম কিংবা যাদের কাছে ওয়াশিংটন রাজনৈতিক কারণে এই উন্নত প্রযুক্তি বিক্রি করতে নারাজ, বেইজিং তাদের সামনে জে-৩৫এ-কে একটি সাশ্রয়ী ও শক্তিশালী বিকল্প হিসেবে দাঁড় করিয়েছে। এরই মধ্যে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রতিরক্ষা কর্মকর্তাদের মধ্যে চীনা সমরাস্ত্রের প্রতি ব্যাপক আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘদিনের একক মার্কিন নির্ভরতা কাটিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় বৈচিত্র্য আনার এই প্রবণতা বিশ্ব অস্ত্র বাজারের সমীকরণ দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

সামরিক শক্তির পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিমানের বাজারেও আধিপত্য কায়েম করতে মরিয়া চীন। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ‘কোম্যাক’ তাদের সি৯১৯ ন্যারোবডি জেটের সরাসরি প্রদর্শনী এবং ভবিষ্যৎ সি৯২৯ ওয়াইড-বডি জেটের মডেল দেখিয়ে পশ্চিমা জায়ান্ট এয়ারবাস ও বোয়িংয়ের একচ্ছত্র সাম্রাজ্যে ফাটল ধরানোর চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে। বিশেষ করে ইন্দোনেশিয়ার মতো উদীয়মান বাজারগুলোর প্রতিনিধিরা চীনা এই বাণিজ্যিক বিমানগুলোর প্রতি বিশেষ কৌতুহল দেখিয়েছেন। সব মিলিয়ে, সিঙ্গাপুর এয়ারশোতে চীনের এই সরব উপস্থিতি কেবল একটি প্রদর্শনী নয়, বরং এশীয় আকাশে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের এক সুদূরপ্রসারী কৌশলগত মহড়া।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top