পুলিশের এলিট ফোর্স র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের দীর্ঘ দুই দশকের পথচলা শেষে বাহিনীটির নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানান যে, এই বাহিনীটির নতুন নাম রাখা হয়েছে ‘স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স’ (এসআইএফ)। মূলত আন্তর্জাতিক মহলের অব্যাহত চাপ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ এবং অভ্যন্তরীণ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা থেকেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা ইতিমধ্যে এই প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছেন এবং শিগগিরই এ সংক্রান্ত সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। সরকার দাবি করছে, কেবল নাম নয়, বাহিনীটির পোশাক, লোগো এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোতেও আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে যাতে একে আরও স্বচ্ছ ও জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা যায়।
২০০৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই র্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও গুমের মতো গুরুতর অভিযোগ উঠতে থাকে, যার জেরে ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্র এই বাহিনীর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। সম্প্রতি জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দফতর এবং গুম সংক্রান্ত কমিশনও এই বাহিনীটি বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। তবে সরকার এখনই বিলুপ্তির পথে না হেঁটে একে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা করছে। নতুন এই ‘এসআইএফ’ বাহিনীটি ইউরোপীয় উন্নত দেশগুলোর এলিট ফোর্সের মডেলে পরিচালিত হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে বাহিনীটির ওপর থাকা আন্তর্জাতিক চাপ এবং ইমেজ সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে প্রশাসন আশা করছে।
তবে এই সংস্কার প্রক্রিয়া নিয়ে মানবাধিকার কর্মী ও অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মানবাধিকার কর্মী নূর খান লিটন মনে করেন, নাম বা পোশাক পরিবর্তন করলেই বাহিনীটির কাজের ধরনে গুণগত পরিবর্তন আসবে কি না তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে। অতীতে বিজিবি বা পুলিশের ক্ষেত্রে এমন নাম পরিবর্তনের নজির থাকলেও তাতে বড় কোনো সুফল আসেনি বলে তিনি মন্তব্য করেন। অন্যদিকে অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাম পরিবর্তন করা সহজ হলেও এসআইএফ-এর সামনে প্রধান চ্যালেঞ্জ হবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন এবং অতীতের নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি রোধ করা। বিএনপি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোও দীর্ঘদিন ধরে র্যাবের কর্মকাণ্ডের কড়া সমালোচনা করে আসছে, তবে এই নতুন নামকরণ ও সংস্কার তাদের কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে তা সময়ই বলে দেবে।







