আমেরিকার হামলায় জ্বলবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য: ট্রাম্পকে খামেনির ‘আঞ্চলিক যুদ্ধে’র হুঁশিয়ারি

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সমরশক্তি বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনকে চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বলেছেন যে, তাঁর দেশের ওপর কোনো ধরনের হামলা চালানো হলে তার পরিণতি হবে একটি ভয়াবহ ‘আঞ্চলিক যুদ্ধ’। রোববার তেহরানে ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের বার্ষিকী উদযাপনের এক অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে এই সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন। খামেনির মতে, আমেরিকা ইরানের বিশাল তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস সম্পদ কুক্ষিগত করতে চায় এবং এবারের সংঘাত শুরু হলে তা কেবল ইরানের সীমানায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে গ্রাস করবে।

সম্প্রতি ইরানে ঘটে যাওয়া দেশব্যাপী বিক্ষোভ ও সহিংসতাকে খামেনি একটি ‘ব্যর্থ অভ্যুত্থান’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, এই অস্থিরতার পেছনে বিদেশি উসকানি ছিল যার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তর, ব্যাংক ও মসজিদগুলো ধ্বংস করা। সর্বোচ্চ নেতা আরও অভিযোগ করেন যে, বিক্ষোভকারীরা পবিত্র কোরআন পুড়িয়েছে এবং পুলিশ ও রেভল্যুশনারি গার্ডসের (আইআরজিসি) ওপর হামলা চালিয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের ভাষ্য অনুযায়ী, এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়েছিল মূলত অর্থনৈতিক মন্দা, সীমাহীন দুর্নীতি এবং মুদ্রাস্ফীতির কারণে, যা পরবর্তীতে সামাজিক ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নেয়। বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের কারণে নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিশাল অসংগতি দেখা দিয়েছে; যেখানে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ৩,১১৭ জনের মৃত্যুর কথা বলছে, সেখানে জাতিসংঘ এবং অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা এই সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কর্তৃক আইআরজিসি-কে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে ইরানের সংসদ সদস্যরা সংসদ ভবনে দাঁড়িয়ে ‘আমেরিকা নিপাত যাক’ স্লোগান দেন এবং পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইউরোপের সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে জনগণের ক্ষোভ প্রশমিত করতে সরকার কিছু বিতর্কিত পদক্ষেপও নিয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো দেশটিতে নারী বাইকারদের মোটরসাইকেল চালানোর অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা। এই সামাজিক ছাড়কে অনেকেই সরকারের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিক্ষোভকারীদের নিয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বিদ্রূপাত্মক অনুষ্ঠান এবং নিহতদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যা দেওয়ার বিষয়টি সাধারণ ইরানিদের মধ্যে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যা দেশটির ভঙ্গুর অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

সূত্র- আলজাজিরা

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top