৭৫ দেশের ভিসা স্থগিতের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ মার্কিন আইনপ্রণেতারা: ট্রাম্প প্রশাসনের নীতিকে ‘অজ্ঞতা ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন দেশটির ৭৫ জন শীর্ষ আইনপ্রণেতা। এক যৌথ বিবৃতিতে তাঁরা এই বৈষম্যমূলক নীতি দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলেছেন যে, এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসীদের পারিবারিক জীবনে চরম বিপর্যয় ডেকে আনবে এবং বৈধ অভিবাসন প্রক্রয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে। এই স্থগিতাদেশের ফলে অসংখ্য পরিবার দীর্ঘমেয়াদী বিচ্ছিন্নতার শিকার হতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতিতে দক্ষ শ্রমিকের সংকট তৈরি হয়ে প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আইনপ্রণেতারা মনে করেন, কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই বিশ্বের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষের জন্য ভিসার দুয়ার বন্ধ করে দেওয়া মার্কিন মূল্যবোধের পরিপন্থী।

সংখ্যালঘুদের নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রভাবশালী সংগঠন কংগ্রেসনাল এশিয়ান প্যাসিফিক আমেরিকান ককাস বা ক্যাপাক-এর চেয়ারম্যান গ্রেস মেং এই নীতির কঠোর সমালোচনা করে একে ট্রাম্প প্রশাসনের অজ্ঞতা ও অভিবাসন বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে জানান যে, যারা বছরের পর বছর ধরে কঠোর নিরাপত্তা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের মধ্য দিয়ে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন, এই নীতি তাঁদের জীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থগিতাদেশের আওতায় কেবল পর্যটন ভিসা নয়, বরং মার্কিন নাগরিকদের নিকটাত্মীয়দের পারিবারিক ভিসা, নিয়োগকর্তা-স্পনসরকৃত দক্ষ কর্মী ভিসা, ধর্মীয় কর্মী এবং ডাইভারসিটি ভিসাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতি বছর ইস্যু হওয়া মোট অভিবাসী ভিসার প্রায় অর্ধেকই এই দেশগুলোর নাগরিকদের অনুকূলে যায়, যা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব মার্কো রুবিও এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব ক্রিস্টি নোমের কাছে পাঠানো এক কড়া চিঠিতে কংগ্রেস সদস্যরা এই সিদ্ধান্তকে অস্বচ্ছ ও বৈষম্যমূলক বলে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁরা বিশেষভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বা বিস্তারিত নির্দেশনা না দিয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই বিশাল পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এসব দেশের আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে এসে সরকারি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়তে পারেন, কিন্তু আইনপ্রণেতারা এই যুক্তিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছেন। তাঁরা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বিদ্যমান অভিবাসন আইনে আবেদনকারীদের আর্থিক সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য ইতোমধ্যেই অত্যন্ত কঠোর ব্যবস্থা রয়েছে।

এই ভিসা স্থগিতাদেশকে ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসনবিরোধী দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সাম্প্রতিক সময়ে এইচ-১বি ভিসার ফি অস্বাভাবিক হারে বাড়ানো, ভিসা বন্ড কর্মসূচি সম্প্রসারণ এবং অগণিত ভিসা বাতিলের মতো পদক্ষেপগুলো মূলত বৈধ অভিবাসনের প্রতিষ্ঠিত কাঠামোকে ধ্বংস করার ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। এ ছাড়া আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন স্থগিত এবং নাগরিকত্ব প্রদানের অনুষ্ঠানগুলো বাতিল করার মাধ্যমে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা চলছে বলে মনে করেন সমালোচক আইনপ্রণেতারা। এই নীতির ফলে ক্ষুদ্র ব্যবসা থেকে শুরু করে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো যে ধরনের কর্মী সংকটে পড়বে, তার দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব মার্কিন উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করবে বলে আইনপ্রণেতারা সতর্ক করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top