ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ কূটনীতিক কাজা ক্যালাস জানিয়েছেন যে, সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস বা আইআরজিসি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে একটি ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইরানের ওপর নতুন করে একগুচ্ছ কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। বিশেষ করে গত বছরের ডিসেম্বর থেকে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনে হাজার হাজার বিক্ষোভকারীকে হত্যার ঘটনায় দায়ী কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি এবং তাঁদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ইইউ মনে করে, মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন ও জনসাধারণের ওপর বলপ্রয়োগের এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরি।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে বিরাজমান সামরিক উত্তেজনা এক বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তি প্রয়োগের হুমকি পুনর্ব্যক্ত করার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তেহরানের পক্ষ থেকে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, তাঁদের সশস্ত্র বাহিনী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় এবং তার ‘তৎক্ষণাৎ ও শক্তিশালী’ জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই আরব সাগরে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিশাল বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’ মোতায়েন করেছে ওয়াশিংটন। যুক্তরাষ্ট্রের এই রণসজ্জা এবং ইরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি পুরো অঞ্চলকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের আশঙ্কায় ফেলে দিয়েছে।
সূত্র- আলজাজিরা







