তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে চরম সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে সতর্ক করে বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানে সরাসরি সামরিক হামলা চালায়, তবে তা হবে একটি ঐতিহাসিক ও মারাত্মক ভুল সিদ্ধান্ত। তাঁর মতে, যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে সমস্যার সমাধান না খুঁজে বরং আলোচনার টেবিলে বসে একটি টেকসই কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি। হাকান ফিদান মনে করেন, নতুন করে কোনো যুদ্ধ শুরু করা কেবল সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্যই নয়, বরং পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্য চরম বিপর্যয়কর হয়ে উঠবে।
মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো স্পর্শকাতর বিষয়েও এখনো গঠনমূলক আলোচনার সুযোগ রয়েছে। তবে এজন্য তিনি একটি সুনির্দিষ্ট ও কৌশলী পদ্ধতি অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। হাকান ফিদান যুক্তরাষ্ট্রকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, ইরানের সঙ্গে বিদ্যমান সব সমস্যা একসাথে সমাধান করার চেষ্টা না করে বরং ধাপে ধাপে বা ‘ওয়ান বাই ওয়ান’ পদ্ধতিতে এগোতে হবে। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রথমে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ও লেবাননের হিজবুল্লাহ বা গাজার হামাসের মতো আঞ্চলিক গোষ্ঠীগুলোর প্রতি ইরানের সমর্থনের বিষয়টি নিয়ে সংলাপ করা যেতে পারে।
উল্লেখ্য যে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি শক্তিশালী এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করার বিষয়টি গত জুনের ১২ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে ইরানি কর্মকর্তারাও পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, কোনো ধরনের উস্কানি বা আক্রমণ হলে তারা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে প্রস্তুত। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, ইরান এই অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম, তবে সেজন্য তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর আস্থা অর্জন করা জরুরি। তিনি ইরানকে পরামর্শ দেন যে, পার্শ্ববর্তী দেশগুলো তাদের কোন দৃষ্টিতে দেখছে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় তাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, সে বিষয়ে তেহরানকে আরও নিবিড়ভাবে মনোযোগ দিতে হবে। পরিশেষে ফিদান উল্লেখ করেন যে, ধর্মীয় বা আদর্শিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে রাষ্ট্র ব্যবস্থা অনুযায়ী পারস্পরিক সহযোগিতা এবং অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি।







