যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপলিসে মাত্র এক মাসের ব্যবধানে দ্বিতীয়বারের মতো ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে এক বিক্ষোভকারীর মৃত্যুর ঘটনায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে গভর্নর টিম ওয়ালজ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি অবিলম্বে রাজ্য থেকে ‘অপ্রশিক্ষিত’ ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) এজেন্টদের প্রত্যাহারের জোরালো দাবি জানিয়েছেন। গভর্নরের মতে, এই এজেন্টদের অদক্ষতা এবং হঠকারী সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করছে।
নিহত ব্যক্তি ৩৭ বছর বয়সী অ্যালেক্স প্রেত্তি পেশায় একজন ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) নার্স এবং জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক ছিলেন। ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আইসিই এজেন্টরা যখন অন্যান্য বিক্ষোভকারীদের মাটিতে ফেলে দিচ্ছিলেন, তখন প্রেত্তি তাদের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যান। ফুটেজ অনুযায়ী, সেই সময়ে তার হাতে কোনো আগ্নেয়াস্ত্র ছিল না, বরং তিনি কেবল একটি মোবাইল ফোন ধরেছিলেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে ডিপার্টমেন্ট অব হোমল্যান্ড সিকিউরিটি (ডিএইচএস) সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি উত্থাপন করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, ফেডারেল কর্মকর্তারা যখন একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন, তখন এক ব্যক্তি পিস্তল হাতে তাদের দিকে ধেয়ে আসেন। কর্মকর্তারা তাকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করলে তিনি সহিংস প্রতিরোধ গড়ে তোলেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এজেন্টরা ‘আত্মরক্ষামূলক’ গুলি ছুড়তে বাধ্য হন। ডিএইচএস-এর এই দাবি এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওর মধ্যে ব্যাপক অসঙ্গতি থাকায় জনমনে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।
এই বিতর্কিত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে সরব হয়েছেন ট্রাম্পের নিজ দলের অন্যতম সমালোচক ও রিপাবলিকান কংগ্রেস সদস্য টমাস ম্যাসি। বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে দেওয়া আত্মপক্ষ সমর্থনের যুক্তি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ম্যাসি অত্যন্ত কঠোর ভাষায় মন্তব্য করেছেন যে, কারও কাছে আগ্নেয়াস্ত্র থাকা মানেই তাকে হত্যার পরোয়ানা দেওয়া নয়। তিনি তার সোশ্যাল মিডিয়া বার্তায় জোর দিয়ে বলেন যে, আগ্নেয়াস্ত্র বহন করা একটি সাংবিধানিক এবং ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকার। যারা এই মৌলিক বিষয়টি বুঝতে সক্ষম নন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কিংবা সরকারের কোনো স্তরে থাকার যোগ্যতা তাদের নেই। প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণকৃত ভিডিওতে প্রেত্তির হাতে অস্ত্রের কোনো অস্তিত্ব না পাওয়া যাওয়ায় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশ্বাসযোগ্যতা এখন বড় ধরনের প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
সূত্র- আলজাজিরা







