‘গ্রিনল্যান্ড আমাদের পেতেই হবে’: দাভোসে ট্রাম্পের হুঙ্কার ও ২০২৬ সালের মধ্যেই দখলের ইঙ্গিত

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার প্রাক্কালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে এক বিস্ফোরক ও অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা এবং বিশ্বব্যাপী কৌশলগত স্থিতিশীলতা রক্ষার স্বার্থে ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড দখল বা অধিগ্রহণ করা এখন অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ট্রাম্পের মতে ডেনমার্ক এই বিশাল ও গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলটির যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সক্ষম নয়। ডেনমার্কের মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলেও দেশটির নেতৃত্বের সমালোচনা করে ট্রাম্প বলেন, ডেনিশ নেতারা অঞ্চলটি রক্ষা করতে পারছেন না এবং এমনকি তারা সেখানে নিয়মিত যাতায়াতও করেন না। ফলে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ব্যবস্থার যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা পূরণে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবির পেছনে মূল কারণ হলো উত্তর মেরু বা আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক ও বাণিজ্যিক তৎপরতা। ট্রাম্প মনে করেন, এই দুই দেশের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে গ্রিনল্যান্ডের ভৌগোলিক অবস্থানকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর কোনো বিকল্প নেই। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত দুই দশক ধরে ন্যাটোও ডেনমার্ককে গ্রিনল্যান্ডের সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছে। এই প্রসঙ্গে ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সাথে তাঁর অত্যন্ত গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট যে, তিনি গ্রিনল্যান্ডকে কেবল একটি দ্বীপ হিসেবে নয়, বরং আধুনিক বৈশ্বিক রাজনীতির এক তুরুপের তাস হিসেবে দেখছেন।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড নিয়ে তাঁর পরিকল্পনার কথা আরও জোরালোভাবে প্রচার করছেন। সেখানে পোস্ট করা একটি ছবিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সাথে তাঁকে দেখা যাচ্ছে, যার ক্যাপশনে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে যে ২০২৬ সালের কোনো এক সময়ে গ্রিনল্যান্ড মার্কিন ভূখণ্ডের অংশ হয়ে উঠবে। ট্রাম্প দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া এখন একটি বৈশ্বিক নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপে পরিণত হয়েছে এবং এখান থেকে পিছিয়ে আসার কোনো পথ খোলা নেই। দাভোসে বিশ্বনেতাদের সাথেও তিনি এই বিষয়ে বিশেষ আলোচনা করবেন বলে পরিকল্পনা করছেন।

তবে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে সামরিক শক্তি ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প বেশ কৌশলী অবস্থান নিয়েছেন। এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সংক্ষিপ্ত টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে তিনি ইউরোপীয় মিত্রদের প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রেখেছেন যে, যারা গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আধিপত্যের বিরোধিতা করবে, তাদের ওপর উচ্চ হারে শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে স্বল্পসংখ্যক মার্কিন সেনা মোতায়েন করার খবর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। অন্যদিকে, ডেনমার্ক এবং গ্রিনল্যান্ড কর্তৃপক্ষ শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনাকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে আসছে এবং তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ড কোনো পণ্য নয় যে এটি বিক্রি করা যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top