গাজা শান্তি বোর্ডে পুতিনকে ট্রাম্পের আমন্ত্রণ: বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের আভাস

ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যকার চলমান যুদ্ধের উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী ক্ষত নিরাময়ে এক অভাবনীয় কূটনৈতিক চাল চেলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা পুনর্গঠন ও সামগ্রিক তদারকির লক্ষ্যে তাঁর প্রস্তাবিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা গাজা শান্তি বোর্ডে যোগ দেওয়ার জন্য তিনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা সংঘাতের কোনো স্পষ্ট সমাধান এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান না হলেও ট্রাম্প তাঁর নিজস্ব পরিকল্পনায় পুতিনকে সম্পৃক্ত করতে আগ্রহী। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই প্রস্তাবকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে এবং মস্কো এখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে এই পর্ষদের কার্যাবলীর প্রতিটি খুঁটিনাটি দিক নিয়ে আলোচনা করতে চায়। উল্লেখ্য যে, এর আগেও পুতিন ট্রাম্পের বিভিন্ন মধ্যস্থতামূলক উদ্যোগের প্রশংসা করে সেগুলোকে বৈশ্বিক সংকট নিরসনের গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন।

হোয়াইট হাউস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই শান্তি পর্ষদ কেবল রাশিয়া নয়, বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের নেতাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী তদারকি কাঠামো গড়ে তুলতে চায়। এরই অংশ হিসেবে পুতিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার লুকাশেঙ্কোকেও এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউক্রেন যুদ্ধ চতুর্থ বছরে পদার্পণ করলেও যখন কোনো কার্যকর শান্তি আলোচনার দেখা মিলছে না, তখন গাজা ইস্যুতে ট্রাম্পের এই উদ্যোগ ওয়াশিংটন ও মস্কোর মধ্যকার বরফ গলানোর একটি মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। যদিও পুতিন শুরু থেকেই গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করে আসছেন এবং একে মানবিক বিপর্যয় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, তবুও ফিলিস্তিনিদের জন্য রাশিয়ার নিয়মিত ত্রাণ সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মস্কোর ক্রমবর্ধমান সুসম্পর্ক এই বোর্ডে রাশিয়ার অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

প্রস্তাবিত এই ‘বোর্ড অব পিস’ মূলত ট্রাম্পের বহুল আলোচিত ২০ দফা পরিকল্পনার একটি অংশ, যার মূল লক্ষ্য হলো গাজা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ঘটানো। এই পর্ষদটি একটি তিন স্তরের শাসন কাঠামো অনুযায়ী পরিচালিত হবে এবং এর কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ এবং আরব দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন বলে পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে এই উদ্যোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে যেমন আশা রয়েছে, তেমনি সমালোচনার সুরও কম নয়। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এই পর্ষদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা যদি কেবল পশ্চিমা ও ইসরায়েলপন্থি ব্যক্তিদের হাতেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে ফিলিস্তিনিদের নিজস্ব রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব প্রান্তিক হয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। ফলে এই বোর্ডের গৃহীত সিদ্ধান্তের গ্রহণযোগ্যতা ও বৈধতা নিয়ে শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top