গাজা পুনর্গঠনে ট্রাম্পের ‘শান্তি পর্ষদ’: যুক্ত হতে কার্নি ও এরদোয়ানসহ বিশ্বনেতাদের ট্রাম্পের আহবান

যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা ও সামগ্রিক তত্ত্বাবধানের লক্ষ্যে ‘বোর্ড অব পিস’ বা ‘শান্তি পর্ষদ’ গঠনের মাধ্যমে এক বিশাল কূটনৈতিক পরিকল্পনা সামনে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে অংশ নেওয়ার জন্য তিনি বিশ্বের বিভিন্ন প্রভাবশালী দেশের নেতাদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছেন। এরই ধারাবাহিকতায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে এই পর্ষদে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। শনিবার (১৭ জানুয়ারি ২০২৬) কানাডার প্রধানমন্ত্রীর এক জ্যেষ্ঠ সহকারী ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি-কে নিশ্চিত করেছেন যে, কার্নি এই প্রস্তাবটি গ্রহণ করার এবং শান্তি পর্ষদের কার্যাবলীতে সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। যদিও কার্নির সুনির্দিষ্ট ভূমিকা বা দায়িত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে গাজার ভবিষ্যৎ নির্মাণে কানাডার এই অংশগ্রহণকে আন্তর্জাতিক মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

নিজেকে এই শান্তি পর্ষদের চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা করে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতোমধ্যেই এর কাঠামো গুছিয়ে নিতে শুরু করেছেন। তিনি যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার এবং বর্তমান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই পর্ষদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও নীতি-নির্ধারণী পদে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। ট্রাম্পের এই উদ্যোগে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম প্রভাবশালী দেশ তুরস্ককে পাশে পাওয়া বড় এক সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানকে গত শুক্রবার একটি বিশেষ চিঠি পাঠিয়ে এই পর্ষদের ‘প্রতিষ্ঠাতা সদস্য’ হওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইস্তাম্বুল থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগ পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই আমন্ত্রণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধ-বিধ্বস্ত গাজায় স্থায়ী শান্তি ফেরানোর প্রক্রিয়ায় তুরস্কের ভূমিকা আরও জোরালো হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গাজার এই শান্তি পর্ষদকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে ট্রাম্প মিশর, আর্জেন্টিনা এবং মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতাদেরও এর সাথে সম্পৃক্ত করার প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ট্রাম্পের লক্ষ্য হলো একটি শক্তিশালী আন্তর্জাতিক পর্ষদ গঠন করা, যারা যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে গাজাকে পুনরায় বাসযোগ্য করে তোলা এবং সেখানকার প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার কাজগুলো সরাসরি তদারকি করবে। মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগ বিশ্ব রাজনীতিতে একটি নতুন সমীকরণ তৈরি করছে, যেখানে পশ্চিমা বিশ্বের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সমন্বয়ে গাজার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হতে যাচ্ছে। এখন দেখার বিষয় হলো, এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে গাজায় প্রকৃতপক্ষে কতটা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ফিলিস্তিন সংকটের স্থায়ী সমাধানে এই পর্ষদ কতটা ফলপ্রসূ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top