ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায় সুশাসন নিশ্চিত করতে নতুন সরকারি অধ্যাদেশ: কঠোর হচ্ছে নিয়ম ও দণ্ড

দেশের ট্রাভেল এজেন্সি খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখা, টিকিটের কৃত্রিম সংকট প্রতিরোধ এবং বিশেষ করে অভিবাসী কর্মীদের প্রতারণা থেকে সুরক্ষা দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০১৩’ সংশোধন করে একটি নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি ২০২৬) এই গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশটি কার্যকর করেন, যার গেজেট ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে। এই নতুন আইন অনুসারে, ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর জন্য ব্যাংক গ্যারান্টির ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে; এখন থেকে সাধারণ বা অফলাইন এজেন্সিকে ১০ লাখ টাকা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পরিচালিত অনলাইন এজেন্সিকে বাধ্যতামূলকভাবে ১ কোটি টাকা ব্যাংক গ্যারান্টি হিসেবে জমা দিতে হবে। এছাড়া কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি নতুন করে ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন না এবং নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি তিন বছর অন্তর সনদ নবায়ন করার পাশাপাশি প্রতি বছর আর্থিক বিবরণীসহ সার্বিক কার্যক্রমের প্রতিবেদন কর্তৃপক্ষের কাছে দাখিল করতে হবে।

বিমানের আসনের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে ‘ফলস বুকিং’ বা বানোয়াট আসন সংরক্ষণের প্রচলিত পদ্ধতিকে এই অধ্যাদেশে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে কোনো এজেন্সি অন্য কোনো এজেন্সির কাছে টিকিট কেনাবেচা বা ‘বিটুবি’ ব্যবসা করতে পারবে না এবং সব ধরনের লেনদেন সরকার নির্ধারিত বৈধ আর্থিক মাধ্যমেই সম্পন্ন করতে হবে। সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন বা মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে অগ্রিম অর্থ আদায়কেও গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে। অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষায় আরও বিশেষ নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে কোনো তৃতীয় দেশ থেকে তাঁদের জন্য টিকিট কেনা যাবে না এবং টিকিট নিশ্চিত হওয়ার পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হবে।

এই নতুন আইনের কঠোরতা নিশ্চিত করতে শাস্তির বিধানও বাড়ানো হয়েছে। নিয়ম লঙ্ঘনকারী ব্যক্তি বা এজেন্সিকে সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড অথবা ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হতে পারে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে জালিয়াতি বা দুর্নীতি রোধে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার ক্ষমতাও এখন থেকে নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। মূলত ট্রাভেল ব্যবসায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশগামী যাত্রীদের হয়রানি বন্ধ করাই এই অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য, যা দেশের বিমান চলাচল ও অভিবাসন খাতে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top