বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি, নির্বাচন এবং বৈশ্বিক সম্পর্কের বিষয়ে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও সাহসী অবস্থান তুলে ধরেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর পর নির্বাচনে ফিরতে যাওয়া জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা এ বছরের শুরুতে ভারতের একজন কূটনীতিকের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠকের কথা প্রথমবারের মতো নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে দেখা করলেও ভারতীয় ঐ কর্মকর্তা বৈঠকটি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলেন। ডা. শফিকুর রহমান মনে করেন, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার কোনো বিকল্প নেই এবং বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে না পড়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চায়। বিশেষ করে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কে যে অস্বস্তি তৈরি করেছে, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি আলোচনার মাধ্যমে সব অমীমাংসিত সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দেন।
আসন্ন ফেব্রুয়ারি মাসের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী এখন দেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। বিভিন্ন জনমত জরিপের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বর্তমানে জনপ্রিয়তার দৌড়ে বিএনপির ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে জামায়াত এবং দুই দলের মধ্যে ব্যবধান অত্যন্ত সামান্য। দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ডা. শফিকুর রহমান আগামী অন্তত পাঁচ বছরের জন্য একটি ‘ঐক্যের সরকার’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর মতে, নির্বাচনে যে দল সর্বাধিক আসন পাবে প্রধানমন্ত্রী হবেন সেই দল থেকেই, আর জামায়াত যদি শীর্ষে থাকে তবে দলই প্রার্থী চূড়ান্ত করবে। তরুণ প্রজন্মের নতুন দল এনসিপির সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনী রণকৌশল সাজানো জামায়াতের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি দুর্নীতিমুক্ত শাসন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা হবে যে কোনো ভবিষ্যৎ ঐক্যের সরকারের প্রধান এজেন্ডা।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের অবস্থান নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন যে, আওয়ামী লীগ আমলে নির্বাচিত বর্তমান রাষ্ট্রপতির অধীনে কোনো সরকারই পূর্ণ স্বস্তিবোধ করবে না। উল্লেখ্য যে, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার জামায়াতের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার পর দলটি এখন নতুন শক্তিতে রাজনীতিতে সক্রিয়। ডা. শফিকুর রহমান বিশ্বাস করেন, দীর্ঘদিনের দমন-পীড়ন কাটিয়ে উঠে একটি টেকসই গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্য ও স্বচ্ছতা প্রয়োজন। শেখ হাসিনার পতনের পর সৃষ্ট শূন্যতায় জামায়াত এখন কেবল একটি ধর্মীয় দল নয়, বরং একটি শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে ক্ষমতায় অংশীদার হওয়ার স্বপ্ন দেখছে।







