টেক্সাসে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৮২, নিখোঁজ ৪১; ক্যাম্প মিস্টিকের চিত্র ভয়াবহ - Peoples News
 

 

টেক্সাসে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যা: মৃতের সংখ্যা ৮২, নিখোঁজ ৪১; ক্যাম্প মিস্টিকের চিত্র ভয়াবহ

হিউস্টন, যুক্তরাষ্ট্র: যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে গত ৪ থেকে ৬ জুলাই (২০২৫) আকস্মিক ও ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৮২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এখনও ৪১ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের মধ্যে গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প থেকে নিখোঁজ হওয়া শিশু ও কিশোরীরাও রয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কের কাউন্টি, যেখানে ৬৮ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে, যাদের মধ্যে ২৮ জন শিশু।1

প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতের কারণে গুয়াডালুপ নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় এই বন্যা দেখা দেয়। ৪ জুলাই থেকে ৬ ইঞ্চি (১৫০ মিমি) থেকে শুরু করে কিছু এলাকায় ১১ ইঞ্চি (২৮০ মিমি) পর্যন্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। শুক্রবার ভোরে মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যে গুয়াডালুপ নদীর পানি ২৬ ফুট (৭.৯ মিটার) বেড়ে যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।

ক্যাম্প মিস্টিকের ট্রাজেডি

কের কাউন্টিতে অবস্থিত জনপ্রিয় খ্রিস্টান গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ‘ক্যাম্প মিস্টিক’ এই বন্যার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।2 এই ক্যাম্প থেকে ১০ জন মেয়ে এবং একজন তত্ত্বাবধায়ক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।3 বন্যার সময় ক্যাম্পে আনুমানিক ৭৫০ জন মেয়ে ছিল, যাদের অধিকাংশই নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, বহু শিশু পানির তোড়ে ভেসে গেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্যাম্পের অবকাঠামো সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেক ভবন পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

উদ্ধার অভিযান ও চ্যালেঞ্জ

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান জোরদার করা হয়েছে। উদ্ধারকর্মীরা হেলিকপ্টার, নৌকা এবং ড্রোন ব্যবহার করে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান করছেন। তবে কাদা, ধ্বংসাবশেষ এবং বিষধর সাপের উপস্থিতির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। কিছু ক্ষেত্রে টেলিযোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজদের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট রবিবার (৬ জুলাই) বলেছেন, “একজনও নিখোঁজ থাকলে আমরা থামব না।” তিনি আরও সতর্ক করেছেন যে, আগামী কয়েকদিনে আরও ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কের কাউন্টির জন্য ‘বড় দুর্যোগ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছেন এবং ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (FEMA) কে সক্রিয় করেছেন।4 প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগামী শুক্রবার (১১ জুলাই) টেক্সাস পরিদর্শনে যেতে পারেন।

অবকাঠামোগত ক্ষতি ও সতর্কতার অভাব

বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু এবং অন্যান্য অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যার ফলে অনেক এলাকা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। নদীর তীরবর্তী আরভি পার্ক এবং আবাসিক এলাকাগুলো সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে, এবং হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় রয়েছে।

বন্যার এত বড় ক্ষতির পেছনে পর্যাপ্ত সতর্কতার অভাব নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। যদিও ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (NWS) বন্যা সতর্কতা জারি করেছিল, তবে স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, এত বড় আকারের বন্যা সম্পর্কে আগে থেকে অনুমান করা সম্ভব ছিল না।

এই ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগে স্থানীয় বাসিন্দারাও দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, খাবার তৈরি করছেন, আশ্রয় দিচ্ছেন এবং ত্রাণসামগ্রী সংগ্রহ করছেন।


Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top