সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে- প্রধানমন্ত্রী
 

 

“এক সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, সেনাসদস্যদের কাছে এলে শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে”: বরিশালে মহড়া পরিদর্শনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতীক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের গভীর আস্থা ও ভালোবাসা রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “জাতীয় সংকট মোকাবিলা, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আমাদের সেনাবাহিনী বারবার নিজেদের পেশাদারিত্ব, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।”

সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) সকাল সাড়ে ১১টায় বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার পূর্ব রহমতপুর এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঐতিহ্যবাহী গ্রীষ্মকালীন প্রশিক্ষণ মহড়া (Summer Training Exercise) সরেজমিন পরিদর্শনকালে সরকারপ্রধান এই মন্তব্য করেন।

জঙ্গলে ঘুরে ঘুরে পরিদর্শন ও জওয়ানদের সঙ্গে মাটিতে বসে আহার

পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কোনো আনুষ্ঠানিকতার বেড়াজালে সীমাবদ্ধ না থেকে পায়ে হেঁটে বিস্তীর্ণ জঙ্গলজুড়ে সেনাসদস্যদের বিভিন্ন কঠিন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং যুদ্ধকালীন রণকৌশলগত প্রস্তুতি ঘুরে ঘুরে দেখেন। দুর্গম ও ঘন জঙ্গলের ভেতরে বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী বিভিন্ন প্রতিকূল ছদ্মবেশ, অবস্থান গ্রহণ ও জওয়ানদের চলাচল নিখুঁতভাবে পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তারা তাঁকে মহড়ার বিভিন্ন কৌশলগত দিক সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফ করেন।

একপর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী মাঠপর্যায়ের সাধারণ সেনাসদস্যদের অত্যন্ত কাছে চলে যান এবং গভীর আন্তরিকতায় তাদের সাথে মাটিতে বসে কিছু সময় কাটান। তিনি জওয়ানদের মুখ থেকে তাদের কঠোর প্রশিক্ষণ, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও দায়িত্ব পালনের গল্প শোনেন।

কৌটার মোম জ্বালানো আগুনে রান্না করা খাবার খেলেন প্রধানমন্ত্রী: মাঠপর্যায়ের সাধারণ জওয়ানদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধক্ষেত্রের পরিবেশে তাৎক্ষণিকভাবে প্রস্তুত করা ব্যারাকে সাধারণ খাবার গ্রহণ করেন। কোনো রাজকীয় আয়োজন ছাড়াই—কৌটার মধ্যে মোম জ্বালিয়ে তৈরি করা বিশেষ আগুনে জওয়ানদের রান্না করা সাদা ভাত, ডাল, আলুভর্তা, চিংড়ি মাছ ও ডিমের তরকারি পরিবেশন করা হয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে। অত্যন্ত তৃপ্তির সাথে সেনাসদস্যদের সাথে বসে এই দুপুরের আহার সম্পন্ন করেন সরকারপ্রধান।

“আমি সেনা পরিবারে বড় হয়েছি, শৈশবের স্মৃতি মনে পড়ে”

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গৌরবময় ইতিহাস ও নিজের আবেগঘন শৈশবের স্মৃতিচারণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন:

“আমি নিজে এক গর্বিত সেনা পরিবারে বড় হয়েছি (শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সন্তান)। তাই সেনাসদস্যদের এই সুশৃঙ্খল পরিবেশ আর কড়া নিয়মানুবর্তিতার কাছে এলে আমার মন প্রফুল্ল হয়ে ওঠে, ভীষণ ভালো লাগে। আমার বারবার অবচেতন মনেই সেই সোনালী শৈশবের দিনগুলোর স্মৃতি মনে পড়ে যায়।”

তিনি যোগ করেন, সেনাসদস্যদের কঠোর শৃঙ্খলা, অনন্য দক্ষতা, দেশের জন্য আত্মত্যাগ ও কর্তব্যনিষ্ঠাই আজ দেশের মানুষের মনে তাদের প্রতি এক বিশেষ মর্যাদার আসন তৈরি করে দিয়েছে। এই অনন্য আস্থা ও আন্তর্জাতিক মর্যাদা চিরকাল ধরে রাখতে হলে কঠোর পেশাদার প্রশিক্ষণ, আধুনিক সামরিক প্রযুক্তির নিখুঁত ব্যবহার এবং সর্বোচ্চ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।

অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেমের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ

আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা যাচাইয়ের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের আধুনিক ড্রোন শনাক্ত ও তা সফলভাবে প্রতিরোধে ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ‘অ্যান্টি-ড্রোন মাল্টি-ব্যারেল সিস্টেম’ (Anti-Drone Multi-Barrel System)-এর স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম ও ফায়ারিং ডেমোনেস্ট্রেশন সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন। সংশ্লিষ্ট কারিগরি সেনা কর্মকর্তারা দেশের আকাশসীমা প্রতিরক্ষায় এই ব্যবস্থার কার্যপদ্ধতি ও আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে এর অনবদ্য ব্যবহার সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে সম্যক ধারণা দেন। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, সেনাবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং বিশ্বমঞ্চে এর সুনাম অক্ষুণ্ণ রাখতে বর্তমান নির্বাচিত সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের কৌশলগত ও আর্থিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।

মহড়া পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top