ঐতিহাসিক জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি ও বীরত্বগাথা নতুন প্রজন্মের কাছে ধরে রাখতে আগামী ৫ আগস্টের আগেই ‘জুলাই জাদুঘর’ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। একই সাথে তিনি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, বর্তমান নতুন সরকার হচ্ছে বিশুদ্ধ ‘জুলাইয়ের সরকার’; তাই এই গণ-অভ্যুত্থান এবং জুলাইয়ের বীর যোদ্ধাদের নিয়ে যেকোনো ধরনের কটূক্তি বা নেতিবাচক মন্তব্য কোনোভাবেই রাষ্ট্র বরদাশত করবে না।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই ২০২৬) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি সরকারের এসব গুরুত্বপূর্ণ নীতি-নির্ধারণী সিদ্ধান্তের কথা জানান।
“এ সরকার জুলাইয়ের সরকার” — ডা. জাহেদ উর রহমান
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন:
“বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতার রক্তের ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছে। এটি স্পষ্টভাবেই জুলাইয়ের সরকার। কাজেই, যে বীর যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদের হাত থেকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা পেয়েছে, তাঁদের নিয়ে বা এই ঐতিহাসিক আন্দোলন নিয়ে কোনো ধরনের কটূক্তি কোনোভাবেই কাম্য নয় এবং তা মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি জানান, আন্দোলনের প্রথম বর্ষপূর্তিকে (৫ আগস্ট) সামনে রেখে সরকার বিশেষ প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হবে ‘জুলাই জাদুঘর’।
আগস্টের দ্বিতীয়ভাগে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মেগা রোডম্যাপ
দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর কৌতূহলের অবসান ঘটিয়ে বড় ঘোষণা দিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, দেশে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ (Roadmap) তৈরি করা হয়েছে।
এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে (১৫ আগস্টের পর) স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করা হবে। এই ঘোষণার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে জনগণের সরাসরি অংশীদারিত্ব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া আরও বেগবান হবে বলে আশা করছে সরকার।
লক্ষ্যের চেয়ে ৯ লাখ টন বেশি খাদ্য মজুত, স্বস্তিতে দেশ
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে দেশবাসীকে বড় ধরনের আশ্বাসের বাণী শুনিয়েছেন তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার ও খাদ্য সংকটের ভূ-রাজনৈতিক গুজবের অবসান ঘটিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে খাদ্যশস্যের কোনো ধরনের ঘাটতি নেই।
উপদেষ্টা সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে জানান, অভ্যন্তরীণ উৎপাদন এবং দূরদর্শী আমদানি ব্যবস্থাপনার কারণে সরকারের নির্ধারিত নিয়মিত যে লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, তার চেয়েও বর্তমানে দেশে অতিরিক্ত ৯ লাখ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য সফলভাবে মজুত রয়েছে। ফলে আপদকালীন পরিস্থিতি বা বন্যা-খরা মোকাবিলা করার মতো পর্যাপ্ত সক্ষমতা সরকারের রয়েছে এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা এখন সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত।







