প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া ও চীন যাত্রা
 

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর: আগামীকাল মালয়েশিয়া ও চীন যাত্রা, সই হতে পারে ১৭টি চুক্তি

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণে আগামীকাল রোববার (২১ জুন ২০২৬) এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সফরে ঢাকা ছাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ফেব্রুয়ারিতে নতুন সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বিদেশ সফর। এই সফরকে বাংলাদেশের নতুন সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদার, কৌশলগত বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিরাট মাইলফলক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ভিভিআইপি ফ্লাইট আগামীকাল বিকেলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবে।

চীন সফরে তিস্তা প্রকল্প ও ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি

প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ সফর শুরুর আগে আজ শনিবার (২০ জুন) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক উচ্চপর্যায়ের সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আলম সিয়াম।

সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসন্ন সফরের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও সম্ভাব্য অর্জনগুলো গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরেন:

  • ১৫ থেকে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা: চীন সফরকালে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সামগ্রিক সহযোগিতা বাড়াতে ১৩টি সমঝোতা স্মারক (MoU), দুটি চুক্তি, একটি কৌশলগত কর্মপরিকল্পনা এবং একটি বিশেষ প্রোটোকলসহ মোট ১৫ থেকে ১৭টি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে।

  • তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা: উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-মরণ সমস্যা এবং বহুল প্রতীক্ষিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ (Teesta Mega Plan) বাস্তবায়ন ও অর্থায়নের বিষয়টি বেইজিংয়ে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে রাখা হবে।

  • ছোট সফরসঙ্গী দল: অপচয় রোধে বর্তমান সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলটি তুলনামূলকভাবে বেশ ছোট রাখা হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, “আমরা এটিকে অত্যন্ত যুক্তিসঙ্গত পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করেছি। প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সফরসঙ্গী হিসেবে মাত্র ২৭ থেকে ২৮ জন সদস্য এই বহরে থাকছেন।”

শি জিনপিং ও লি কিয়াং-এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক

নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি চীনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। আগামী ২৫ জুন তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর সঙ্গে একান্ত ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এরপর সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ২৬ জুন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

এছাড়া চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী দেশটির লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বিখ্যাত ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (যা ‘সামার দাভোস ফোরাম’ নামে পরিচিত) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই বৈশ্বিক ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি বিশ্বনেতা, গবেষক ও প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে তারেক রহমান বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংস্কার ও উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির রূপরেখা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।

বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও শ্রমবাজার পুনর্গঠনে জোর

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সফরের মালয়েশিয়া পর্বে বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার থাকবে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কুয়ালালামপুরের বন্ধ থাকা শ্রমবাজারের জটিলতা দূর করে জনশক্তি রপ্তানিতে স্বচ্ছতা আনা এবং মালয়েশিয়ান বিনিয়োগের সুযোগ বৃদ্ধি করা। অন্যদিকে, চীন সফরে বাংলাদেশের অবকাঠামো, তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আঞ্চলিক সংযোগ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন খাতে চীনের বৃহৎ আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা আরও গভীর করার ওপর জোর দেওয়া হবে।

সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সপরিবারে ও সফরসঙ্গীসহ দেশে ফেরার কথা রয়েছে। আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত সচিব এ কে এম শহিদুল করিমসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কূটনৈতিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top