সৌদি আরবের রিয়াদে বাংলাদেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এবং সৌদির হজ ও উমরাহ বিষয়ক মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ-এর মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সৌদির পক্ষ থেকে বাংলাদেশের চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনার অভূতপূর্ব সাফল্য ও শৃঙ্খলার উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করা হয়।
বুধবার (১০ জুন ২০২৬) রিয়াদের ‘দ্য পিলগ্রিমস এক্সপেরিয়েন্স প্রোগ্রাম সেন্টার’-এ এই দ্বিপক্ষীয় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের হজের সার্বিক কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করায় বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন সৌদি মন্ত্রী এবং ধর্মমন্ত্রী কায়কোবাদকে তাঁর আন্তরিক নেতৃত্বের জন্য বিশেষ অভিনন্দন জানান। একই সাথে তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
ভবিষ্যৎ হজের উন্নয়নে বাংলাদেশের সহায়তা কামনা সৌদির
বৈঠকে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রী ড. তৌফিক বিন ফাউজান আল রাবিয়াহ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনার দক্ষতা ও সুশৃঙ্খলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে বৈশ্বিক হজ ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়নে বাংলাদেশের অভিজ্ঞতা ও সহায়তা কামনা করে সৌদি সরকার। এর পাশাপাশি আগামী ২০২৭ সালের হজের পরিবেশ আরও সহজ ও উন্নত করতে সৌদি সরকারের গৃহীত বিভিন্ন আধুনিক ও কৌশলগত পদক্ষেপের পরিকল্পনাও বৈঠকে তুলে ধরেন তিনি।
সৌদি বাদশাহ ও ক্রাউন প্রিন্সকে বাংলাদেশের ধন্যবাদ
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) সামগ্রিক হজ ব্যবস্থাপনার আধুনিক ও যুগোপযোগী উন্নয়নের জন্য সৌদি সরকারের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বিশেষ করে এবারের হজে আল্লাহর মেহমানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা, উন্নত ট্রাফিক ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সুশৃঙ্খল ভিড় ব্যবস্থাপনা, আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহার এবং মাশায়েরে (মিনা-আরাফাত-মুজদালিফা) উন্নত হাজি সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে হজ পালনের চমৎকার পরিবেশ তৈরির প্রশংসা করেন ধর্মমন্ত্রী। এই সফলতার জন্য তিনি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সউদ, ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদির হজ মন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। ধর্মমন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, হাজিদের সেবার মান বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ সর্বদা সৌদি সরকারের পাশে থেকে সহযোগিতা করবে।
বৈঠকে সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলওয়ার হোসেন, জেদ্দাস্থ বাংলাদেশ হজ মিশনের কাউন্সিলর (হজ) মো. কামরুল ইসলামসহ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।







