এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের
 

 

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের: ‘টু প্লাস টু’ বৈঠকের সিদ্ধান্ত

বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক নতুন কৌশলগত উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে ঢাকায় নিযুক্ত তুর্কি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধির সঙ্গে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

শনিবার (৬ জুন ২০২৬) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে (PMO) তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধানমন্ত্রী এই আমন্ত্রণ জানান। বৈঠকে উপস্থিতির বিষয়ে এক সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত নিশ্চিত করা হয়েছে। সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ সফরের জন্য তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। অন্যদিকে তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তাঁদের দেশের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের আন্তরিক শুভেচ্ছা পৌঁছে দেন।

সম্পর্ককে ‘কৌশলগত পর্যায়ে’ উন্নীত করতে ৩টি বড় সিদ্ধান্ত

বৈঠকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, “আমার এ সফর বাংলাদেশ-তুরস্ক সম্পর্ককে কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার প্রথম পদক্ষেপ।” এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে তিনটি বড় সিদ্ধান্ত ও কাঠামো তৈরি করা হয়েছে:

  • বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন: দুই দেশের সম্পর্ককে নিয়মিত মূল্যায়নের মধ্যে রাখতে উভয় পক্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ে প্রতিবছর ‘বার্ষিক ফরেন অফিস কনসালটেশন’ (FOC) আয়োজনের বিষয়ে একমত হয়েছে।

  • ‘টু প্লাস টু’ পরামর্শ বৈঠক: বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও কৌশলগত বোঝাপড়া বাড়াতে দুই দেশের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের সরাসরি অংশগ্রহণে প্রতিবছর একটি উচ্চপর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ (২+২) পরামর্শ বৈঠক আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

  • যৌথ পরামর্শ কাঠামো গঠন: দুই দেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহযোগিতা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর অধীনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী ‘পরামর্শ কাঠামো’ বা বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে।

রোহিঙ্গা সংকট ও বাণিজ্য নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা

বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি ও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট সমাধান (রোহিঙ্গা সংকট), বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বিভিন্ন খাতে যৌথ উৎপাদন (Joint Production) ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়।

গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top