ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটি বিমান ও স্থলপথে ব্যবহারের উপযোগী গোলাবারুদসহ প্রায় ৬ হাজার ৫০০ টন সামরিক সরঞ্জাম গ্রহণ করেছে। মন্ত্রণালয়টি তাদের টেলিগ্রাম পোস্টে উল্লেখ করেছে যে, এই বিশাল পরিমাণ সরঞ্জাম দুটি জাহাজ ও বেশ কয়েকটি উড়োজাহাজে করে ইসরায়েলে আনা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সড়কপথে বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এই সরবরাহের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে যেকোনো সময়ে এবং যেকোনো স্থানে পূর্ণ শক্তি নিয়ে লড়াই চালিয়ে যেতে সেনাবাহিনীর প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিশ্চিত করা হচ্ছে।
হরমুজ প্রণালিতে ‘নতুন অধ্যায়’ ও ইরানের সক্ষমতা রক্ষার ঘোষণা:
এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এক বিবৃতিতে দাবি করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘লজ্জাজনক ব্যর্থতার’ পর হরমুজ প্রণালিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। জাতীয় পারস্য উপসাগর দিবস উপলক্ষে দেওয়া এই বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে বড় প্রচারণা ও আগ্রাসনের দুই মাস পার হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে।
একই সঙ্গে তিনি দেশের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। মোজতবা খামেনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের এই সক্ষমতাগুলো ধ্বংস করতে চাইলেও তেহরান তা হতে দেবে না। তিনি এই সামরিক সক্ষমতাকে ইরানের ‘জাতীয় পুঁজি’ হিসেবে অভিহিত করে জানান, দেশের ভূমি, নৌ ও আকাশ সীমান্তের মতোই পারমাণবিক এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকেও যেকোনো মূল্যে রক্ষা করা হবে।
একদিকে ইসরায়েলের ব্যাপক সামরিক প্রস্তুতি এবং অন্যদিকে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা রক্ষার অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা নিয়ে খামেনির এই মন্তব্য এবং ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থান বিশ্ব ভূ-রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি নির্দেশ করছে।







