কুইক রেন্টালের নামে দেশ ধ্বংসের দায় আওয়ামী লীগের: সংসদে পার্থ
 

 

বিদ্যুৎ খাতে ‘অব্যবস্থাপনা’ নয়, হয়েছে পরিকল্পিত চুরি: সংসদে ব্যারিস্টার পার্থ

জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিদ্যুৎ খাতের নজিরবিহীন দুর্নীতি এবং দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২৩তম দিনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে পার্থের বক্তব্যে সংসদ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ তাঁর বক্তব্যে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে গত ১৭ বছরে যা হয়েছে তাকে কেবল ‘অব্যবস্থাপনা’ বললে ভুল হবে; এটি ছিল মূলত লাগামহীন দুর্নীতি ও পরিকল্পিত চুরি। তিনি অভিযোগ করেন, বাপেক্সকে অকার্যকর করে তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরীর প্রত্যক্ষ মদদে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছিল যাতে কুইক রেন্টালের নামে অর্থ লোপাট করা যায়।

তরুণ প্রজন্মের প্রতি বার্তা ও বিগত সরকারের ক্ষত:

পার্থ তাঁর বক্তব্যে তরুণ প্রজন্মের মনস্তত্ত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “২০০৮ থেকে আওয়ামী লীগ যে অবর্ণনীয় অত্যাচার চালিয়েছে, তা তরুণদের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। শেয়ারবাজার লুট, বিডিআর পিলখানা হত্যাকাণ্ড এবং শাপলা চত্বরের ঘটনাগুলো আজকের প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা।” তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ইয়াবা সম্রাট বদি কিংবা মমতাজের মতো ব্যক্তিদের সংসদে বসিয়ে এই পবিত্র স্থানকে কলঙ্কিত করা হয়েছিল।

বিচার বিভাগ ও শিক্ষা ব্যবস্থার ধ্বংসযজ্ঞ:

বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে পার্থ বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে রায়গুলো গণভবনের বারান্দায় বসে লেখা হতো এবং একজন প্রধান বিচারপতিকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। শিক্ষা ব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, বর্তমান জিপিএ-৫ প্রাপ্ত অনেক শিক্ষার্থী মৌলিক বিষয়েও জ্ঞান রাখে না। এই ধ্বংসযজ্ঞ থেকে দেশকে উদ্ধারের ঐতিহাসিক দায়িত্ব এখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ওপর।

বিরোধী দলীয় নেতার সাথে বাগ্‌বিতণ্ডা:

বক্তব্যের এক পর্যায়ে ব্যারিস্টার পার্থ বর্তমান বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ও তাঁর জোটের রাজনৈতিক অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘রাজনৈতিক ভণ্ডামি’ বলে অভিহিত করেন। এর প্রতিবাদে শফিকুর রহমান দ্রুত ফ্লোর নিয়ে পার্থের বক্তব্যের তথ্যের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং একে ‘রেকলেস কথা’ বলে মন্তব্য করেন। তিনি দাবি করেন, পার্থ সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য ভিত্তিহীন অভিযোগ আনছেন। জবাবে পার্থ বলেন, ডিজিটাল যুগে মিথ্যা তথ্য দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয় এবং তাঁর কাছে প্রতিটি কথার দালিলিক প্রমাণ রয়েছে।

নতুন প্রস্তাবনা:

ব্যারিস্টার পার্থ প্রবাসীদের ও গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য সংসদের উচ্চকক্ষে প্রতিনিধিত্বের প্রস্তাব দেন এবং ব্যাংক লুট ও অর্থনৈতিক অপরাধ রুখতে ‘ইকোনমিক ট্রিজন’ বা অর্থনৈতিক রাষ্ট্রদ্রোহিতা আইন পাসের জোর দাবি জানান।

জাতীয় সংসদে ব্যারিস্টার পার্থের এই বক্তব্য এবং তার বিপরীতে বিরোধী দলীয় নেতার প্রতিবাদ সংসদীয় রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে বিগত সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের দায়ভার এবং বর্তমান রাজনৈতিক জোটের গতিপ্রকৃতি নিয়ে সংসদে এই উত্তাপ আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top