এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বাংলাদেশে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্ম পেপ্যাল (PayPal) চালুর প্রক্রিয়া অবশেষে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে। বুধবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরাসরি ঘোষণা দিয়েছেন যে, দেশে পেপ্যালের কার্যক্রম শুরু করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণে বর্তমান সরকার তার নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে এক ধাপ এগিয়ে গেল। প্রধানমন্ত্রী সংসদে জানান, হাইটেক পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলোর কার্যকর পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন সহজ করতে পেপ্যালের সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ শুরু হয়েছে।
কেন এবারের উদ্যোগ ভিন্ন ও বাস্তবসম্মত?
বিগত সময়ে কেবল ‘PayPal Xoom’ (রেমিট্যান্স সেবা) চালু হলেও পূর্ণাঙ্গ পেপ্যাল সেবা অধরা ছিল। তবে এবার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
-
প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি: সরকার কেবল মৌখিক আশ্বাস নয়, বরং বাস্তবায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট কমিটি গঠন করেছে।
-
নীতিগত আগ্রহ: ২০২৫ সালের শেষভাগ থেকে পেপ্যালের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল ঢাকায় একাধিক বৈঠক করেছে এবং তারা বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করতে ‘নীতিগতভাবে আগ্রহী’ বলে জানিয়েছে।
-
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংস্কার: বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের কড়াকড়ি কমিয়ে ডিজিটাল অর্থনীতির অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে।
বাধা কাটিয়ে ওঠার পরিকল্পনা:
আগে কেন পেপ্যাল আসেনি—তার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২৪ ঘণ্টার সাপোর্ট সিস্টেমের অভাব, কেওয়াইসি (KYC) যাচাইকরণের দুর্বলতা এবং অবাধ অর্থপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা ছিল প্রধান প্রতিবন্ধকতা। নতুন গঠিত কমিটি এই প্রযুক্তিগত ও নীতিগত জটিলতাগুলো নিরসনে কাজ করবে।
পেপ্যাল চালু হলে যা পরিবর্তন হবে:
১. ফ্রিল্যান্সিং বিপ্লব: পেমেন্ট জটিলতা দূর হওয়ায় ফ্রিল্যান্সাররা সরাসরি ও দ্রুত তাদের আয়ের টাকা দেশে আনতে পারবেন।
২. ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের বৈশ্বিক বাজার: দেশি ই-কমার্স ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সরাসরি আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।
৩. রেমিট্যান্স বৃদ্ধি: প্রবাসী বাংলাদেশিরা আরও সহজে ও কম খরচে বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে পারবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি এই প্রকল্পের তদারকি করায় এবার পেপ্যাল আসার সম্ভাবনা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বাস্তবসম্মত।







