ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন প্রশাসনের যুদ্ধনীতির প্রকাশ্য বিরোধিতা করে পদত্যাগ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল কাউন্টারটেরোরিজম সেন্টারের (এনসিটিসি) পরিচালক জো কেন্ট। গত বছরের জুলাই মাসে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিযুক্ত হওয়া কেন্ট সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের এই কঠিন সিদ্ধান্তের পেছনের কারণগুলো তুলে ধরেছেন।
“ইরান কোনো হুমকি ছিল না”: ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির প্রতিবাদে এনসিটিসি প্রধানের পদত্যাগ
জো কেন্ট তার পদত্যাগপত্রে বর্তমান সংঘাতকে “বিবেকের তাড়নায় সমর্থন অযোগ্য” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান আমেরিকার জন্য কোনো আসন্ন হুমকি ছিল না; বরং ইসরায়েল এবং আমেরিকান লবিগুলোর চাপের মুখে যুক্তরাষ্ট্র এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। কেন্ট মনে করেন, এই সংঘাত আমেরিকার জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি দেশপ্রেমিক আমেরিকানদের জীবন ও সম্পদ ধ্বংসের একটি “ফাঁদ”।
ব্যক্তিগত ক্ষতি ও অভিজ্ঞতার বর্ণনা:
একজন ১১ বারের যুদ্ধফেরত অভিজ্ঞ সেনা এবং ‘গোল্ড স্টার’ স্বামী হিসেবে কেন্ট তার ব্যক্তিগত বেদনার কথা স্মরণ করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট একটি যুদ্ধে তিনি তার স্ত্রী শ্যাননকে হারিয়েছেন। কেন্ট বলেন, “আমি পরবর্তী প্রজন্মকে এমন এক যুদ্ধে লড়াই করতে বা মরতে পাঠাতে পারি না, যা আমেরিকান জনগণের কোনো উপকারে আসবে না এবং যা কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়।”
ট্রাম্পের পূর্ববর্তী নীতির সমালোচনা:
জো কেন্ট প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের পূর্ববর্তী পররাষ্ট্রনীতির সমর্থক ছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ২০২৫ সালের জুন মাস পর্যন্ত খোদ ট্রাম্প নিজেও বিশ্বাস করতেন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধগুলো একটি ফাঁদ। কিন্তু বর্তমান সংঘাত সেই নীতি থেকে সরে আসার শামিল বলে তিনি মনে করেন। তার এই পদত্যাগ ট্রাম্প প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ মহলে ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধ নিয়ে ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পদত্যাগপত্রের মূল বক্তব্যসমূহ
-
যুদ্ধের কারণ: ইসরায়েল ও আমেরিকান লবির প্রবল চাপ।
-
ইরানের অবস্থান: যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো আসন্ন বা প্রত্যক্ষ হুমকি নয়।
-
ব্যক্তিগত অবস্থান: একজন অভিজ্ঞ সেনা ও গোল্ড স্টার স্বামী হিসেবে আর কোনো অপ্রয়োজনীয় রক্তক্ষয় সমর্থন করেন না।
-
ভবিষ্যদ্বাণী: এই সংঘাত আমেরিকার সমৃদ্ধি ও তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংস করবে।







