ঈদের আগে প্রবাসীদের উপহার; ২ সপ্তাহে রেমিট্যান্স এলো ২.২০ বিলিয়ন ডলার

আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশে প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) জোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মার্চ মাসের প্রথম ১৪ দিনেই ২.২০ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.৭০ শতাংশ বেশি। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এই ইতিবাচক তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মূলত ঈদ উদযাপনে পরিবারের খরচ মেটাতে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ পাঠানোর প্রবণতা এবং ডলারের আকর্ষণীয় রেট এই প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রেখেছে।

ডলার বাজারের বর্তমান চিত্র:

ব্যাংকগুলো বর্তমানে প্রবাসী আয়ের ডলার সংগ্রহে প্রতি ডলারের বিপরীতে ১২১ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ১২১ টাকা ৭৫ পয়সা পর্যন্ত দর দিচ্ছে। অন্যদিকে, আমদানি ব্যয় মেটানোর ক্ষেত্রে ডলারের দাম ১২১ টাকা ২০ পয়সার আশেপাশে স্থিতিশীল রয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের রিজার্ভ সংরক্ষণে কঠোর অবস্থানের কারণে ব্যাংকগুলো বাজার থেকে ডলার সংগ্রহে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

ঝুঁকি ও ভবিষ্যৎ শঙ্কা:

রেমিট্যান্স প্রবাহে এই ইতিবাচক ধারা থাকলেও ব্যাংকাররা কিছু ঝুঁকি নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা কর্মসংস্থান সংকটে পড়তে পারেন। এটি ভবিষ্যতে ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেমিট্যান্সের তুলনামূলক চিত্র

সময়কাল (মার্চের প্রথম ১৪ দিন) রেমিট্যান্সের পরিমাণ (ডলার) প্রবৃদ্ধি
২০২৫ সাল ১.৬২ বিলিয়ন
২০২৬ সাল ২.২০ বিলিয়ন ৩৫.৭০%

উল্লেখ্য বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে এই রেমিট্যান্স প্রবাহ সরকারের জন্য বড় স্বস্তি হিসেবে দেখা দিচ্ছে। তবে ঈদ পরবর্তী সময়ে এই ধারা বজায় রাখা এবং হুন্ডি প্রতিরোধে ডলারের দরের স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই হবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল চ্যালেঞ্জ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top