ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধের ১৪তম দিনে (১৪ মার্চ ২০২৬) সংঘাত এক ভয়াবহ নতুন মোড় নিয়েছে। প্রথমবারের মতো এই যুদ্ধে সরাসরি মার্কিন স্থলসেনা বা মেরিন সেনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। একইসঙ্গে সমুদ্র এবং আকাশপথেও পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
নিচে আজকের সংঘাতের বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরা হলো:
যুদ্ধক্ষেত্রে আড়াই হাজার মার্কিন মেরিন সেনা: ইরান ও মিত্রদের ওপর সাঁড়াশি আক্রমণের প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো বড় ধরনের স্থল অভিযানের লক্ষ্যে প্রায় ২,৫০০ মার্কিন মেরিন সেনাকে মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জাপানের ওকিনাওয়ায় অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি থেকে ৩১তম মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিটের এই সদস্যরা উভচর যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস ত্রিপোলি’ যোগে যাত্রা শুরু করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাহিনী সরাসরি স্থলভাগে ঢুকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অবস্থান দখল বা আকস্মিক সংকটে সরাসরি অভিযানে অংশ নেবে। এর মাধ্যমে যুদ্ধের চরিত্র আকাশ ও নৌপথ থেকে স্থলভাগের দিকে মোড় নিল।
ইরানি হামলার ভয়াবহতা ও তেলের বাজারে ধস:
ইরানের আইআরজিসি (IRGC) দাবি করেছে, তারা ইসরায়েলের শিন বেত সদর দপ্তর, পালমাচিম ও ওভদা বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। একইসঙ্গে সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান এয়ার বেসসহ কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোতেও হামলা চালিয়েছে ইরান। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় এবং এই উত্তেজনার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি ও ইরানের তেলকেন্দ্রে হামলা:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপের সামরিক স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে। তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ইরানের তেল অবকাঠামো হবে পরবর্তী বড় লক্ষ্যবস্তু। গত ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের অভ্যন্তরে শত শত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৬,০০০ লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে মিত্রবাহিনী।
মানবিক বিপর্যয় ও ক্ষয়ক্ষতি:
দুই সপ্তাহের এই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে উভয় পক্ষেই ব্যাপক প্রাণহানি ঘটছে। ইরানে হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজারে দাঁড়িয়েছে এবং ইসরায়েলেও বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। হিজবুল্লাহসহ ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো উত্তর ইসরায়েলে অবিরাম রকেট হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
রণক্ষেত্রের সর্বশেষ পরিসংখ্যান
| সূচক | তথ্য |
| মার্কিন সেনা মোতায়েন | ২,৫০০ (মেরিন সেনা) |
| আক্রান্ত জাহাজ | ১৬+ (হরমুজ প্রণালী ও নিকটবর্তী এলাকা) |
| তেলের দাম | ১০০+ মার্কিন ডলার (প্রতি ব্যারেল) |
| মোট বিমান হামলা | ৬,০০০+ (যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল কর্তৃক) |







