ইরানে গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া সংঘাত এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্যে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে। তেহরানে আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ শীর্ষ নেতাদের মৃত্যু এবং দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলায় এই অঞ্চল এখন এক ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে। এই সংকটকে কেন্দ্র করে বিশ্বশক্তিগুলো এখন স্পষ্টত দুই মেরুতে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লক ও মিত্রদের অবস্থান
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ চলতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ এই সামরিক পদক্ষেপের প্রতি সরাসরি সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। তাদের মতে, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে এই আক্রমণ প্রয়োজনীয়। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার সরাসরি যুদ্ধে অংশ না নিলেও কাতারে ব্রিটিশ বিমানঘাঁটির সুরক্ষায় টাইফুন যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছেন এবং ইতিমধ্যে একটি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করেছে ব্রিটিশ বাহিনী। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উরসুলা ভন ডার লেন এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানালেও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সমালোচনা করেছেন। ইউক্রেন ও আলবেনিয়া এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের সংকল্পের প্রশংসা করেছে।
ইরানের মিত্র ও প্রতিবাদী রাষ্ট্রগুলোর অবস্থান
রাশিয়া ও চীন এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন একে একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সশস্ত্র আগ্রাসন হিসেবে অভিহিত করেছেন। চীন ইরানের ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর আহ্বান জানিয়ে অবিলম্বে সংলাপ শুরুর তাগিদ দিয়েছে। উত্তর কোরিয়া এই হামলাকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে দাবি করেছে। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ইরাক তিন দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ খামেনি হত্যাকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছেন এবং শোকাতুর ইরানিদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
বাংলাদেশ, ভারত ও স্পেনের অবস্থান
বাংলাদেশ এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক প্রকাশ করে জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে এই হামলা চালানো হয়েছে। তবে বাংলাদেশ কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দীর্ঘদিন নিশ্চুপ থাকার পর সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, ভারত মধ্যপ্রাচ্যের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং উত্তেজনা প্রশমনে আলোচনার পক্ষে। অন্যদিকে, স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইরানের বিরুদ্ধে কোনো অভিযানে স্পেনের ভূমি বা সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।







