১৭ বছরের নির্বাসন থেকে রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে: তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশের অভিযাত্রা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে রাষ্ট্রক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলের পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি কেবল নিজের দুটি আসনে জয়ই অর্জন করেননি, বরং দলের অভাবনীয় বিজয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার ভার গ্রহণ করেছেন। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হিসেবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে ‘তারেক যুগ’-এর সূচনা হলো। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘ বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে তার এই আরোহণ বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পরিবর্তনের বার্তা দিচ্ছে।

তারেক রহমানের এই যাত্রা কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ২০০৭ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ ১৮ মাস কারাভোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য লন্ডন গমন এবং সেখানে নির্বাসিত জীবনযাপন করেন প্রায় ১৭ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তার বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি আইনিভাবে সব মামলা থেকে অব্যাহতি পান। নির্বাচনের এক মাস আগে মা ও দলের তৎকালীন চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর দলের হাল ধরেন তিনি। গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর লাখো জনতার ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি পুরোদমে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

নির্বাসনে থেকেও লন্ডন থেকে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে ভিডিও বার্তায় দল পরিচালনা করেছিলেন তিনি। বর্তমানে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে শপথ গ্রহণের মাধ্যমে তারুণ্য ও অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন তারেক রহমান। নির্বাচনের হলফনামা অনুযায়ী, ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণকারী তারেক রহমান ঢাকার বিএএফ শাহীন কলেজে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেন। ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার মাধ্যমে তার আনুষ্ঠানিকভাবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু। তবে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে মা বেগম খালেদা জিয়ার নির্বাচনী প্রচারে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে তিনি দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top