বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক দীর্ঘস্থায়ী তিক্ততা ও দূরত্বের অবসান ঘটিয়ে এক নতুন ও ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা করলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রবিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে তিনি রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। নির্বাচনের পর সরকার গঠনের সন্ধিক্ষণে দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক শক্তির শীর্ষ নেতাদের এই বৈঠককে জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রায় ৪৫ মিনিট স্থায়ী এই হৃদ্যতাপূর্ণ আলোচনা শেষে রাত ৮টার দিকে তারেক রহমান সেখান থেকে বিদায় নেন। বৈঠকের শুরুতে জামায়াত আমির অত্যন্ত উষ্ণভাবে তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান, যা দুই দলের আগামীর সম্পর্কের গভীরতাকে নির্দেশ করে।
এই সাক্ষাতের পরপরই ডা. শফিকুর রহমান তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে এক আবেগঘন ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায় তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ‘ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে আগাম অভিনন্দন জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমানের এই আগমন সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে। জামায়াত আমিরের মতে, এই সফর কেবল একটি সাধারণ সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বরং এটি ইনসাফ ও ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত ও সার্বভৌম বাংলাদেশ গড়ার সম্মিলিত স্বপ্নেরই প্রতিফলন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, জামায়াতে ইসলামী ও ১১-দলীয় জোট একটি সমৃদ্ধ, স্থিতিশীল ও আধুনিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে সাংবিধানিক শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধই হবে প্রধান ভিত্তি।
বৈঠকের অন্যতম প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল নির্বাচন-পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তারেক রহমান জামায়াত আমিরকে এই মর্মে আশ্বস্ত করেছেন যে, নির্বাচনের পর যেকোনো ধরণের সহিংসতা রোধে তাঁর দল কঠোর অবস্থান নেবে। বিশেষ করে বিরোধী দলের নেতাকর্মী এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর যেন কোনো ধরনের হামলা বা জানমালের ক্ষয়ক্ষতি না হয়, সেজন্য কার্যকর ও শক্তিশালী পদক্ষেপ গ্রহণের অঙ্গীকার করেছেন তিনি। জামায়াত আমির এই আশ্বাসকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন যে, দেশের কোনো নাগরিকই যেন নতুন বাংলাদেশে ভয়ভীতি বা নিরাপত্তাহীনতার শিকার না হয়। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তি বজায় রাখাই হবে আগামীর রাজনীতির প্রধান লক্ষ্য।
সরকারের সাথে আগামীর সম্পর্ক কেমন হবে সে বিষয়েও ডা. শফিকুর রহমান একটি পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানান যে, জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে তাঁরা নির্বাচিত সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতা করবেন, তবে একটি আদর্শিক বিরোধী দল হিসেবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দিতে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তাঁরা আপসহীন থাকবেন। তাঁদের লক্ষ্য কোনো সংঘাত বা অযৌক্তিক বাধা দেওয়া নয়, বরং গঠনমূলক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে সঠিক পথে পরিচালিত করা। এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তারেক রহমানের সাথে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। অন্যদিকে জামায়াত আমিরের সাথে ছিলেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সাক্ষাতটি বাংলাদেশের আগামীর সংসদীয় রাজনীতিতে এক নতুন স্থিতিশীলতার বার্তা দিচ্ছে।







