গণতন্ত্রের নবযাত্রা: মঙ্গলবার সকালে বিজয়ী এমপি ও বিকেলে মন্ত্রিসভার শপথ

বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে আগামী মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জনগণের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে বিজয়ী হওয়া জনপ্রতিনিধিরা এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা শনিবার রাতে নিশ্চিত করেছেন যে, ওই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু হবে নতুন সংসদের। এরপর একই দিন বিকেলে বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হবে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। দীর্ঘ দেড় দশক পর দেশে একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকারের পথচলা শুরু হতে যাওয়ার এই খবরটি দেশজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

নির্বাচনী জটিলতা ও পূর্বতন স্পিকার না থাকার কারণে এমপিদের শপথ কে পড়াবেন, তা নিয়ে যে আইনি প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল, তারও সমাধান হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এর মাধ্যমে চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম নির্বাচিত পার্লামেন্টের সদস্যরা তাদের সাংবিধানিক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুভার কাঁধে নিতে যাওয়া নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বিকেলে শপথ পড়াবেন মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মূলত একই দিনে এই দুই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের যে স্বপ্ন জুলাই বিপ্লবে দেখা হয়েছিল, তা একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পেতে যাচ্ছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। দ্বিতীয় বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, যারা ৬৮টি আসনে বিজয় ছিনিয়ে এনেছে। এছাড়া ১১-দলীয় জোটের অংশীদার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ৬টি এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি আসনে জয় পেয়েছে। অন্যান্য বিজয়ী দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন, খেলাফত মজলিস এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রত্যেকে একটি করে আসনে জয়লাভ করেছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাতজন স্বতন্ত্র প্রার্থী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার এই বিশাল গণতান্ত্রিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটবে শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে, যা বাংলাদেশকে এক আধুনিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পথে কয়েক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top