গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নতুন দিগন্ত: ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘোষণা

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় রচনার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন যে, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পরপরই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ের মধ্যে নবনির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি মাত্র তিন দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যার ফলে আগামী ১৫ বা ১৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই দেশ নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভা পেতে পারে। প্রেসসচিবের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই এই প্রক্রিয়া ১৭ বা ১৮ ফেব্রুয়ারির বেশি দীর্ঘায়িত হবে না। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণের পর নিয়মানুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ জানানো হবে এবং এর মাধ্যমেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব শেষ হবে।

প্রেসসচিব শফিকুল আলম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত পরবর্তী সরকারে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসনের কোনো ধরনের ভূমিকা বা প্রভাব থাকবে না। নির্বাচনের পরপরই একটি নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ক্ষমতা বুঝিয়ে দেওয়া হবে। বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রকে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের উপযোগী করে গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার সাধন করা। এরই অংশ হিসেবে ‘জুলাই চার্টার’ বা জুলাই সনদ প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দেশের রাষ্ট্রব্যবস্থাকে আমূল পরিবর্তনের একটি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। এই সংস্কার প্রস্তাবগুলো আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে গণভোট বা রেফারেন্ডামের মাধ্যমে জনগণের রায়ের জন্য পেশ করা হবে এবং দেশের মানুষই তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।

বিগত সময়ের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতি বন্ধ করার বিষয়ে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। প্রেসসচিবের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের আমলে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি এবং যারা অতীতে এমন নৃশংস কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের প্রত্যেককে জবাবদিহিতার আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হচ্ছে। দেশের রাজনীতি ও সংস্কৃতি আগে হাতেগোনা কয়েকজনের কাছে জিম্মি ছিল, যেখানে এখন এক গুণগত পরিবর্তন এসেছে। স্বচ্ছতা ও সততার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা দায়িত্ব ছাড়ার আগে তাদের ব্যক্তিগত সম্পদের হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশ করবেন। মূলত একটি জবাবদিহিমূলক ও সুশাসিত রাষ্ট্র গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এই সরকার বিদায় নিতে যাচ্ছে, যা আগামীর বাংলাদেশের জন্য এক অনুসরণীয় মানদণ্ড হয়ে থাকবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Scroll to Top