মহিমান্বিত রজনী লাইলাতুল বরাত বা শবে বরাত আজ দেশব্যাপী যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও ইবাদত-বন্দেগির মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। হিজরি শাবান মাসের ১৪ তারিখ দিবাগত এই রাতটিকে মুসলিম উম্মাহ গুনাহ থেকে মুক্তি এবং পরম করুণাময়ের কৃপা লাভের বিশেষ সুযোগ হিসেবে গণ্য করে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের পাড়া-মহল্লার মসজিদে মসজিদে এখন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড়, জিকির-আজকার এবং বিশেষ মোনাজাতের ধ্বনিতে মুখরিত চারপাশ।
ইবাদত ও আধ্যাত্মিক আবহ
এই পবিত্র রাতে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় মুসলমানরা নফল নামাজ, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত এবং তসবিহ পাঠে মগ্ন রয়েছেন। অনেকেই এই উপলক্ষে নফল রোজা রাখছেন এবং সাধ্যমতো দান-খয়রাত করছেন।
-
কবর জিয়ারত: অসংখ্য মানুষ এই রাতে তাঁদের প্রয়াত মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে চোখের জলে মাগফিরাত কামনা করছেন।
-
বিশেষ মোনাজাত: বর্তমান প্রেক্ষাপটে দেশ ও জাতির কল্যাণ, বিশ্বশান্তি এবং সকল প্রকার মহামারি ও বিপদ-আপদ থেকে মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আকুতি জানাচ্ছেন মুসল্লিরা।
শবে বরাতের তাৎপর্য ও হাদিসের আলোক
শবে বরাতকে বলা হয় রমজানের আগমনী বার্তা। হাদিস শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, এই রাতে মহান আল্লাহ তায়ালা প্রথম আসমানে অবতরণ করেন এবং ফজর পর্যন্ত বান্দাদের ডাকতে থাকেন।
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:
“এই রাতে আল্লাহ তায়ালা বলেন— গুনাহ থেকে ক্ষমা চাওয়ার কে আছ? আমি তাকে ক্ষমা করে দিব। অসুস্থতা থেকে সুস্থতা চাওয়ার কে আছ? আমি তাকে সুস্থ করে দিব। রিজিক অন্বেষণকারী কে আছ? আমি তার রিজিকের ব্যবস্থা করে দিব।”
| বৈশিষ্ট্য | বিবরণ |
| নামান্তর | মুক্তির রজনী, ভাগ্য নির্ধারণের রাত। |
| প্রধান আমল | রাত জেগে ইবাদত ও পরের দিন (১৫ শাবান) রোজা রাখা। |
| প্রধান আধ্যাত্মিক লক্ষ্য | তওবার মাধ্যমে গুনাহ মোচন ও ভবিষ্যৎ কল্যাণ কামনা। |
বর্জনীয় ও পালনীয় শিষ্টাচার
ধর্মীয় পন্ডিত ও ইমামগণ এই রাতের পবিত্রতা রক্ষায় কিছু বিষয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন:
১. আতশবাজি ও পটকা ফুটানো: ইবাদতের পরিবেশে বিঘ্ন ঘটায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা।
২. অহেতুক ঘোরাফেরা: রাস্তায় আড্ডা বা দুনিয়াবী কাজে মগ্ন না থেকে নিভৃতে ইবাদত করা সওয়াবের কাজ।
৩. লৌকিকতা বর্জন: হালুয়া-রুটি বা বিশেষ খাবারের আয়োজনে ব্যস্ত না হয়ে জিকির ও তওবায় মনোযোগ দেওয়া।







