বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান জনগণের লুণ্ঠিত সম্পদ সাধারণ মানুষের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন। রোববার বিকেলে রাজধানীর উত্তর কাফরুলে ঢাকা-১৫ সংসদীয় আসনের এক গণসংযোগ ও মিছিলপূর্ব সমাবেশে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, দুর্নীতি তাঁদের দলীয় আদর্শ ও চরিত্রের পরিপন্থী। তাঁর মতে, জনগণের আমানত রক্ষা করা এবং যা চুরি হয়েছে তা পুনরুদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের হাতে পৌঁছে দেওয়াই হবে তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। তিনি দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করেন যে, জনগণের একটি পয়সাও তাঁরা ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে স্পর্শ করবেন না।
সমাবেশে আমীর অত্যন্ত বিনয়ের সাথে সাধারণ মানুষের কাছে নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, তাঁদের কোনো কথা বা আচরণে যদি কেউ কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে যেন তা ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখা হয়। তিনি মহান আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন যেন তাঁদের দল নিষ্ঠার সঙ্গে জনগণের সেবা করার তৌফিক পায়। তিনি আবারও স্মরণ করিয়ে দেন যে, ব্যক্তিগত লাভের কোনো এজেন্ডা তাঁদের নেই, বরং একটি সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনই তাঁদের একমাত্র উদ্দেশ্য।
এই গণসংযোগ কর্মসূচিতে আমীরের সাথে দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। উল্লেখযোগ্যদের মধ্যে ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জনাব মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমীর আব্দুর রহমান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি লস্কর মো. তসলিম এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদসহ স্থানীয় থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের অসংখ্য দায়িত্বশীল নেতা-কর্মী মিছিলে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
সমাবেশ শেষে একটি বিশাল শান্তিপূর্ণ মিছিল কাফরুলের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল চলাকালীন নেতা-কর্মীরা দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং ইনসাফ কায়েমের পক্ষে নানা শ্লোগান দেন। পুরো এলাকায় একটি সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছিল এবং সাধারণ মানুষের মাঝে লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে তাঁরা তাঁদের লক্ষ্য ও পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জামায়াত আমীরের এমন বিনয়ী ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষণা ভোটারদের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।







