জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এক নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের অঙ্গীকার নিয়ে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে দলের ৩৬ দফার নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত জোরালোভাবে উল্লেখ করেন যে, যদিও তাঁরা ১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের অংশ হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, তবে তাঁদের মূল লড়াইটি কেবল ভোটের জন্য নয়, বরং দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের জন্য। এই ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিকদের উপস্থিতিতে নাহিদ ইসলাম গত ১৬ বছরের স্বৈরাচারী শাসন এবং স্বাধীনতার পরবর্তী ৫০ বছরের রাজনৈতিক ব্যর্থতার এক নির্মোহ বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে না পারার মূল কারণ হলো একটি টেকসই ও জনবান্ধব রাজনৈতিক কাঠামোর অনুপস্থিতি।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন, যেখানে ৩৬ দফার বিস্তারিত রূপরেখা সাধারণ মানুষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। নাহিদ ইসলাম তাঁর বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে দলের প্রাণশক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, শহীদ মিনারের সেই ঐতিহাসিক ঘোষণা—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত—আজও তাঁদের মূল আদর্শিক স্তম্ভ। তিনি মনে করেন, ২০২৪-পরবর্তী সময়ে জন্ম নেওয়া এই রাজনৈতিক দলটি কোনো গতানুগতিক ধারা নয়, বরং একটি নতুন প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। এই ইশতেহারে তারুণ্যকে অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে রাখা হয়েছে, কারণ গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া এই প্রজন্মই আগামীর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের কারিগর হবে বলে এনসিপি বিশ্বাস করে।
বক্তব্যের শেষ দিকে নাহিদ ইসলাম ‘মর্যাদা’ বা ‘ডিগনিটি’র ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন যে, গত দেড় দশকে নাগরিক অধিকার ও মানুষের ন্যূনতম মর্যাদা বারবার ধূলিসাৎ করা হয়েছে। মানুষের মানবাধিকার এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে না পারাটাই ছিল পূর্ববর্তী ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। এনসিপি চায় এমন একটি রাষ্ট্রব্যবস্থা যেখানে প্রতিটি নাগরিকের মর্যাদা সুরক্ষিত থাকবে এবং রাষ্ট্রীয় সংস্কারের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। ১১ দলীয় জোটের মাধ্যমে সংস্কারের এই লড়াইকে চূড়ান্ত লক্ষ্যে নিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি, যা কেবল নির্বাচনি বৈতরণী পার হওয়ার জন্য নয় বরং একটি দীর্ঘমেয়াদী গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।







